চৌগাছায় মারধরের পর নারীর চুল কর্তন

আ'লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২০   

যশোর অফিস

চুল কাটার পর আহত নারী- সমকাল

চুল কাটার পর আহত নারী- সমকাল

যশোরের চৌগাছায় এক নারীকে মারধরের পর মাথার চুল কেটে দিয়েছে প্রতিবেশীরা। তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে রোববার দুপুরে তার ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

আহত অবস্থায় এক সন্তানের জননী ওই নারীকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর।

রোববার ফুলসারা ইউনিয়নের সলুয়া পূর্বপাড়ায় তার ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় হামলার শিকার নারীর স্বামী রফিকুল ইসলাম রাতে চৌগাছা থানায় মামলা করেছেন। এর আগেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সলুয়া পূর্বপাড়ার আহাম্মদ আলীর ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আজুফা বেগম, হাসানের স্ত্রী শিউলী বেগম, সালামের স্ত্রী রেহেনা, সিরাজুলের স্ত্রী বিউটি বেগম ও জামাল হোসেনের স্ত্রী শাপলা বেগম। মামলায় তাদের ছাড়াও সিরাজুলের ছেলে মিরাজ ও মোহাম্মদ আলীর আরেক ছেলে জামাল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

চৌগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম এনামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারদের সোমবার আদালতে পাঠানো হবে।

হামলার শিকার নারী জানান, তিনি নকশি কাঁথা, বিছানার চাদর তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ করেন। এতে তিনি বেশ আয় করেন এবং সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করেন। এ কারণে তার প্রতিবেশীদের ধারণা, তার চরিত্র ভালো নয়। তাই তারা তাকে বেদম মারধর করেছে এবং মাথার চুল কেটে দিয়েছে।

আহতের স্বামী জানান, তিনি সলুয়া বাজারে কাঁচামাল বিক্রি করছিলেন। এ সময় তার স্ত্রীর ওপর হামলার খবর শুনতে পেয়ে বাড়িতে যান। বাড়ি গিয়ে দেখেন তার স্ত্রী আহত অবস্থায় পড়ে আছে এবং তার মাথার চুল কাটা।

স্থানীয়রা জানান, মাস খানেক আগে ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর বিরোধ হয়। গ্রাম্য সালিশ বিচারে তা মীমাংসা হয়ে যায়। সে ঘটনার সূত্র ধরে রোববার দুপুরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা তাকে পিটিয়ে আহত করে এবং মাথার চুল কেটে দেয়।