স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২০      

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় নিজ ঘরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

খুনের শিকার উত্তম কুমার রাজমিস্ত্রি ছিলেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ললিতা রানী গুরুতর আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তমের বাড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতিপাড়া মহল্লায়। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর মেঝেতে ফেলে রেখে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় উত্তমের স্ত্রীর হাত, পা এবং মুখ বাঁধা ছিল। বাড়ির পাশে হরিসভা চলার কারণে পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছিল।

স্থানীয়রা আরও জানান, ঘরের মধ্যে চেঁচামেচি শুনতে পেয়ে প্রতিবেশী জোসনা রানী দেবনাথ উত্তমের বাবা-মাকে খবর দেন। এ সময় পুত্রবধূ ললিতা রানীর চেঁচামেচি শুনতে পেয়ে চিৎকার করতে থাকেন উত্তমের মা। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে টিনের বেড়া ভেঙে ললিতা রানীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ভর্তি করেন। এ সময় উত্তম রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিল। তিনি ওই মহল্লার নিবারণ চন্দ্রের ছেলে। এক বছর আগে প্রতিবেশী সুকুল চন্দ্রের মেয়ে ললিতার সঙ্গে উত্তমের বিয়ে হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ললিতা রানী জানান, তিন অপরিচিত যুবক ঘরে ঢুকে স্বামীর সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ নিয়ে তর্কবির্তকের একপর্যায়ে তার হাত, পা এবং মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা। তিনি ওই যুবকদের দেখলে চিনবেন।

রাতেই ওসি আব্দুল্লাহিল জামান ও পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বুধবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ নিয়ে উত্তমের বড় ভাই গোপাল চন্দ্র দেবনাথ অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।

ওসি জানান, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।