অসময়ে তিস্তায় ভাঙন, বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২০      

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

ভাঙনে হাজারও একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে- সমকাল

গাইবান্ধায় অসময়েও রোধ করা যাচ্ছে না তিস্তা নদীর ভাঙন। অব্যাহত ভাঙন মোকাবেলা করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চরবাসী। গত ২০ দিনের ভাঙনে শত শত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উজানেও ভাঙনের মুখে রয়েছে হাজারও একর আবাদি জমি।

তিস্তার পানি কমে যাওয়ার পর থেকে উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। যতই পানি কমছে ততই ভাঙন বাড়ছে। বিশেষ করে হরিপুর,  শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি, মাদারিপাড়া, চর হরিপুর, পাড়া সাধুয়া, লালচামার, পুটিমারী, কেরানির চর, পকিড়ের চর, কালাইসোতার চর এলাকায় তীব্র আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

হরিপুর  ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি গ্রামের গিয়াজ মিয়া জানান, ৬৫ বছর বয়সে তিনি ২৫ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। গত বছরে তিনি ৪ বার নদী ভাঙনের স্বীকার হন। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি আর নদী ভাঙন মোকাবেলা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমার বয়সে আমি কখনও পৌষ মাসে নদী ভাঙন দেখিনি। গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে এ অবস্থা শুরু হয়েছে।

কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, আমিও নদী পাড়ের মানুষ। আমি জানি, নদী ভাঙনের কত কষ্ট। নদী ভাঙন রোধে সরকারের বড় পদক্ষেপ ছাড়া আমাদের পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর  রহমান জানান, নদী ভাঙন রোধ, সংস্কার, সংরক্ষণ আসলে বৃহৎ প্রকল্পের প্রয়োজন। এটি আসলের সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে এর মধ্যে ৪০৬ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী জানান, বর্তমানে তিস্তার উজানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে শুধু আবাদি জমি ভাঙছে।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জনস্বার্থে মহান সংসদে নদী ভাঙন বিষয়ের উপর জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি উপস্থাপন করা হয়। জবাবে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুন্দরগঞ্জের নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নদী ভাঙন রোধ, বাঁধ সংস্কার ও সংরক্ষণ বাবদ ৪০৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

২০১৯ সালের ২ মে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার তিস্তানদীর বিভিন্ন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, তিস্তা নদীকে রক্ষা এবং ভাঙন রোধ করতে হলে নদীর গতিপথ একমুখি করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।