কয়েকদিনের অব্যাহত শীতে ও রোটা ভাইরাসের প্রভাবে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকশ শিশু বহিঃর্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ২৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোববারেও ৮ শিশু ঠান্ডাজনিত রোগে ভর্তি আছে বলে জানা গেছে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের জন্য মাত্র ৬ টি বেড বরাদ্দ থাকায় অনেকেই এখানে ভর্তি হতে পারছে না। এছাড়া এখানে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় অনেকেই কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রোববার শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য পুরুষ ওয়ার্ডের বাথরুমের সঙ্গে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে সাধারণ বেডে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ওয়ার্ডে চিকিৎসারত এক শিশুর মা মোসাম্মাৎ খাদিজা বেগম জানান, তার ডায়রিয়ার আক্রান্ত শিশুকে গত শুক্রবারে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনদিন পুরুষ ওয়ার্ডের ডায়রিয়া বেডেই শিশুটির চিকিৎসা চলছে। এখনও তার জন্য আলাদা সিট পাননি।  

পুরুষ ওয়ার্ডে শিশুদের রাখা প্রসঙ্গে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাকিবউদ্দিন রনি বলেন, বেশিরভাগ শিশু  ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এজন্য তাদের পুরুষ ওয়ার্ডের বাথরুমের সঙ্গে ডায়রিয়া বেডে রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে আলাদা কোনো শিশুওয়ার্ড নেই। 

শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রাশেদ আল মামুন জানান, শীতে রোটা ভাইরাস বৃদ্ধি পায়। এ কারণে শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়।  তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে আলাদা শিশুওয়ার্ডসহ অন্য সব সমস্যার সমাধান এ মুহূর্তে সম্ভব নয়।