বগুড়ায় জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ওঠা ও পুলিশের ওপর হামলার প্রতিবাদে রোববার শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন করেছে 'আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার' নামে একটি সংগঠন। 

অন্যদিকে দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সেদিনের ঘটনা অস্বীকার করে একে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সাংসদ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।

মানববন্ধনে 'আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার' নামে সংগঠনটির নেতারা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দায়ী করে ওই ঘটনার জন্য তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। 

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন বাবলু, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম লাল, আখতারুজ্জামান, আব্দুল কাদের, আনোয়ার হোসেন, আল রাজী জুয়েল, মাহমুদুননবী রাসেল প্রমুখ।

এদিকে, দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা শহরের টিটু মিলনায়তনে করার জন্য জেলা ছাত্রদল পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করে। পুলিশ সুপার মৌখিকভাবে অনুমতিও দেন। তিন দিন আগে হঠাৎ করে পুলিশ টিটু মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিল করে সংগঠনের নবাববাড়ী রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা করার জন্য বলে। 

ছাত্রদল এতে রাজি হয়ে পুলিশ প্রশাসনকে বলে, শহরের আলতাফুনেছা খেলার মাঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে সেখান থেকে এক সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে যাবে। পুলিশ তাদের শহরের শহীদ খোকন পার্কে সমবেত হতে বলে। ঘটনার দিন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খোকন পার্কে সমবেত হলে বিনা উস্কানিতে কিছু অত্যুৎসাহী পুলিশ আকস্মিক ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে নেতাকর্মীরা দিজ্ঞ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেখানে গেলে আমরা জানতে চাই পুলিশ অকারণে লাঠিচার্জ করছে কেন? তখন তিনি বলেন, ছাত্রদলের ছেলেরা জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠেছে। আমরা তাকে বললাম, কেউ শহীদ মিনারে ওঠেনি। তার পরও পুলিশ লাঠিচার্জ করতে থাকে।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ অভিযোগ করেন, সেদিন বরং পুলিশ সদস্যরাই বুট জুতা পরে শহীদ মিনারে ওঠেন, যা ভিডিও ফুটেজে আছে। 

তিনি বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ওপর মিথ্যা অভিযোগ দিতে আওয়ামী লীগ এ ষড়যন্ত্রের নাটক সাজায়। ওই ঘটনার পর পুলিশ ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের ৬৭৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে।