বিপজ্জনক!

নলছিটিতে গাছকেই বানানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ     

পুলক চ্যাটার্জি, বরিশাল

নলছিটি পৌর শহরে এভাবেই গাছে গাছে টানানো হয়েছে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন- সমকাল

রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ঝুলছে বিদ্যুতের তার। অনেক স্থানে র‌্যাক ছাড়াই জিআই তার দিয়ে টানা হয়েছে বিদ্যুৎ লাইন। সেখান থেকে বাড়িতে বাড়িতে দেওয়া হয়েছে সংযোগ। ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহর এবং পার্শ্ববর্তী দপদপিয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। অথচ গত বছরের জুলাই মাসে এক কোটি টাকা ব্যয়ে 'সম্প্রসারণ ও পরিবর্ধন প্রকল্পের' আওতায় এ এলাকায় নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। ছয় মাস মেয়াদি এ প্রকল্পের সময় শেষ হয় গত ডিসেম্বরে। তবে সময় শেষ হলেও নতুন খুঁটি স্থাপন ও সরবরাহ লাইনের কাজ ৪০ শতাংশও শেষ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারের অহেতুক বিলম্বের জন্যই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখনও রয়ে গেছে ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহ লাইন। ঝালকাঠি  জেলার নলছিটি পৌর শহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার বাসার আশপাশে এবং পার্শ্ববর্তী থানারপুল ও বিআইপি কলোনিতে গাছের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের তার রয়েছে। তারা একাধিকবার স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে খুঁটি স্থাপন করে নতুন সরবরাহ লাইন দেওয়ার অনুরোধ করেছেন, তবে কাজ হয়নি। সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. মহসিন জানান, তার বসতঘরের পাশে একটি গাছের সঙ্গে র‌্যাক দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হয়েছে। অনেকবার বলেও খুঁটি স্থাপন করাতে পারেননি। ছয় মাস আগে নতুন খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার তাদের এলাকায় এখনও কাজ শুরুই করেননি। অথচ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে চায়না মাঠে শত শত খুঁটি পড়ে আছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর শহরের হাসপাতাল সড়ক, বিআইপি কলোনি, সবুজবাগ, মালিপুর, নাঙ্গুলী, বৈচণ্ডী, মাটিভাঙা, সূর্যপাশা, সারদল, নান্দিকাঠি ও পোস্ট অফিস এলাকা এবং দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি, পূর্ব দপদপিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাকা খুঁটির পরিবর্তে তাল, মেহগনি, চাম্বল ও রেইন্ট্রি গাছের সঙ্গে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। সেখান থেকে বাড়িতে বাড়িতে দেওয়া হয়েছে সংযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা ঘটলে দিনের পর দিন বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

এ ব্যাপারে ওজোপাডিকোর নলছিটি অফিস সূত্র জানায়, দরপত্রের মাধ্যমে সম্প্র্রসারণ ও পরিবর্ধন প্রকল্পের কাজটি পেয়েছিল খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রকি কনস্ট্রাকশন। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেয় আজাদ ট্রেডিংয়ের মালিক মাসুম মল্লিক। তিনি নলছিটির বাসিন্দা। গত বছরের জুলাই মাসে কাজ শুরু করেন তিনি।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় ১২ মিটারের ৮১০টি হাই টেনশন (এইচটি) এবং ৯ মিটারের ৫৫২টি লো-টেনশন (এলটি) পাকা খুঁটি স্থাপনের কথা রয়েছে। এসব খুঁটিতে ১০০ গজ দূরত্বে মার্লিন তার দিয়ে ৪০ কিলোমিটার এবং ওয়াসপ তার দিয়ে ৩২ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত স্থাপন করা হয়েছে ৪২০টি এলটি এবং ৫৬০টি এইচটি খুঁটি। তবে ওই খুঁটিগুলোতে এখনও সরবরাহ লাইন দেওয়া হয়নি।

নলছিটি ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী মো. ফিরোজ সন্যামত জানান, ঠিকাদারকে অনেক অনুরোধ করেও সময়মতো কাজ শেষ করাতে পারেননি। প্রকল্পের তিন ধাপের কাজের মধ্যে শুধু প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে।

তবে ঠিকাদার মাসুম মল্লিক দাবি করেন, এ ধরনের প্রকল্পের কাজ শেষ করতে কমপক্ষে দেড় বছর সময় প্রয়োজন। তবে সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র পাঁচ মাস। এর মধ্যে যতটুকু সম্ভব করেছেন। নতুন করে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। কাজে কোনো ত্রুটি হচ্ছে না।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নলছিটিতে চলমান প্রকল্পটির অনেক কাজ এখনও বাকি। এ অবস্থায় মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদার সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। সময় বাড়ানো হলে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ শেষ হবে।