রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া রাতের আঁধারে দুটি কালভার্ট ভাঙার দু'দিন পর এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

মঙ্গলবার সিলেটের বিভিন্ন স্থানীয় দৈনিকে ‘রাস্তা বন্ধের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘কালভার্টগুলো ভেঙে প্রশস্ত করার জন্য আজ (মঙ্গলবার) থেকে জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে বারুতখানা পয়েন্ট এবং অনুরাগ হোটেলের সামনে থেকে নাইওরপুল পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে।’

অথচ গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকেই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে নগরীর বারুতখানা সংলগ্ন এলাকায় একটি এবং নাইওরপুল সংলগ্ন এলাকায় অপর কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়। এতে দু’দিন আগেই নগরীর ব্যস্ততম জিন্দাবাজার-নাইওরপুল পর্যন্ত সড়কে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে সোমবার দৈনিক সমকালে 'হঠাৎ ভাঙা হলো ব্যস্ত সড়কের ২ কালভার্ট' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ও জনদুর্ভোগের ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে নগরীর পূর্ব অংশের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়ক দু’দিন আগে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহল মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কালভার্টগুলো অর্ধেক ভেঙে নির্মাণ করা হলে জনদুর্ভোগ কম হত। এই দুটি কালভার্ট নির্মাণ কাজের জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদিও সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান দাবি করেছেন, একমাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি নগরীর বন্দরবাজার থেকে জিন্দাবাজার সড়কে একটি কালভার্ট ভেঙে প্রশস্ত করার সময়ও ছয় মাস রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। মঙ্গলবারের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সিটি করপোরেশন নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্ট সংলগ্ন আরেকটি কালভার্ট ভাঙার কথাও উল্লেখ করেছে। যদিও গত রোববার সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান সমকালকে বলেছিলেন, আপাতত তারা জিন্দাবাজার পয়েন্টের কালভার্ট ভাঙবেন না।

এই রাস্তা বন্ধ থাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ‘সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ’ করে যানবাহন চালকদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে।