রাজশাহীর টেনিস কমপ্লেক্স থেকে রাজাকার জাফর ইমামের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। মঙ্গলবার রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান জেলা ও মহানগর শাখার মুক্তিযোদ্ধারা। 

এ সময় একই দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক। তিনি বলেন, রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স থেকে স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও রাজাকার জাফর ইমামের নামটি বাদ দেওয়া হয়নি। অনেকবার নামটি বদলের জন্য আন্দোলন করেও কোনো ফল হয়নি। তিনি আরও বলেন, জাফর ইমাম এনএসএফের মূল সংগঠক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক নেতার ওপর প্রাণঘাতী হামলার মূল কুশীলব ছিল। ১৯৬৪ সালে জাতীয় নেতা শহীদ কামারুজ্জামানের ডাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভুবনমোহন পার্কের জনসভায় এই জাফর ইমামের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসলিম লীগের নেতা রাজাকার শিরোমণি আয়েন উদ্দীনের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর জিপে চড়ে প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেরিয়েছেন জাফর ইমাম। তার মাধ্যমেই রাজশাহীর সাধারণ মানুষের ওপর চলেছে লুটপাট, নির্যাতন, হত্যার ঘটনা। তার দেওয়া তালিকা ধরেই পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের ধরে ধরে গণহত্যা চালিয়েছিল।

রুহুল আমিন প্রামাণিক আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অনেক দোসরের ইতোমধ্যেই ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে দেশের সব স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নান, সফিকুর রহমান রাজা, মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম, জিনাতুন নেসা তালুকদার, মোহাম্মদ আলী কামাল, রবিউল ইসলাম, নাজিম উদ্দীন, সাইদুল ইসলাম, মতিউর রহমান, আব্দুস সামাদ, সাহাদুল হক, নুরুল ইসলাম, মতিন হাকিম, আতাউর রহমান প্রমুখ।