ভাগ্নিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মামাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২০      

রাজশাহী ব্যুরো ও বাঘা প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাঘায় স্কুলছাত্রী ভাগ্নিকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় নাজমুল হোসেন নামে (৩০) এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে বখাটেরা। এ সময় আহত হয়েছেন ওই ছাত্রীর ভাই তারিকুল ইসলাম ও বাবা শাহজাহান মাস্টার। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঘা-লালপুর সীমান্তের সুলতানপুর ও মনিহারপুর গ্রামের ভোলার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমুল সুলতানপুর গ্রামের আলহাজ্ব আজিজুর রহমান ওরফে তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সুলতানপুর এলাকার শাহজাহান মাস্টারের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে উত্যক্ত করতো আরজেদ আলীর ছেলে সুমন। মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে শাহজাহান আলী সুমনের বাবার কাছে অভিযোগ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় সুমন। সুমনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহজাহান মাস্টারের ওপর হামলা করে। এতে শাহজাহান মাস্টার (৫০) গুরুতর আহত হন। এ খবর জানার পর শাহজাহান মাস্টারের শ্যালক নাজমুল হোসেন ও তার পুত্র তারিকুল ইসলাম শাহজাহান মাস্টারকে উদ্ধার করতে এলে তাদেরকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে চিকিৎসক নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন। তারিকুলকেও বাঘা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শাহজাহান মাস্টারকে লালপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত তারিকুল ইসলাম জানান, তার বোনকে বিভিন্ন সময়ে উত্যক্ত করতো লালপুরের মনিপুর গ্রামের আরজেদ আলির ছেলে সুমন। ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার মনিহরপুর ও সুলতানপুর গ্রামের সুমন, সম্রাট, সুলতান, আরিফ, নাজমুল, মিঠু ও রামকৃষ্ণপুরের কামরুলসহ প্রায় ২০ জনের একটি দল তার বাবা শাহাজান মাস্টারের ওপর আক্রমণ চালায়।  মুঠোফোনে এ খবর জানার পর নওপাড়া বাজার থেকে মামা নাজমুলকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে সেখানে যান তিনি। সেখানেই নাজমুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাকেও জখম করে বখাটেরা। 

বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ঘটনা জেনেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।