রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স থেকে জাফর ইমামের নাম প্রত্যাহারের দাবি

মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০   

রাজশাহী ব্যুরো

মানবন্ধনে মুক্তিযোদ্ধারা- সমকাল

মানবন্ধনে মুক্তিযোদ্ধারা- সমকাল

রাজশাহীর টেনিস কমপ্লেক্স থেকে রাজাকার জাফর ইমামের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন রাজশাহী জেলা ও মহানগরের দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

মানববন্ধনকালে মুক্তিযোদ্ধারা আল্টিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ার করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নামটি অপসারণ না হলে তারা নিজেরাই গিয়ে নামটি গুঁড়িয়ে দেবেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেন, জাফর ইমাম রাজাকার ছিলেন, পাকিস্তানী বাহিনীর হয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবিদের নিধনসহ নানা রকম নির্যাতন চালিয়েছে। এসবের সাক্ষি মুক্তিযোদ্ধারাই। শীর্ষ এই রাজাকারের নামে স্বাধীন বাংলাদেশে কোন স্থাপনার নাম থাকতে পারে না। এ জন্য এবার তারা জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের উচ্চপদের কর্মকর্তাদের স্মারকলিপি দেবেন। উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে টেনিস কমপ্লেক্স থেকে রাজাকার জাফর ইমামের নামটি বাদ দেয়া না হলে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে গিয়ে নামটি গুঁড়িয়ে দেবেন। এজন্য যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হলে মুক্তিযোদ্ধারা দায়ী থাকবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক বলেন, ১৯৬৬ সালের ৬দফা আন্দোলনের পর থেকে এই জাফর ইমামের হাতে আমি নিজে মার খেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসংখ্য মানুষকে তার গুন্ডা বাহিনী পিটিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এখন সংগঠিত। তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে আমরা এখন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে স্মারকলিপি দেব। এরপরও যদি অপসারণ না হয়, তবে আমরা নিজেরাই নামটি গুড়িয়ে দেব। এরজন্য যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য সরকার দায়ী হবে।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে জাফর ইমাম ছিলেন মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন এনএফএস এর প্রধান সংগঠক। তার নেতৃত্বেই মুক্তি-সংগ্রাম আন্দোলনের পক্ষের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হতো। পরবর্তীতে রাজকার শিরোমনি আয়েন উদ্দীন ও পাকিস্তানী বাহিনীর হয়ে বুদ্ধিবীজি নিধনে নামে জাফর ইমাম। চালান লুটপাট, নারীদের উপর নির্যাতন। এবিষয়ে দৈনিক সমকালে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপরই মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে রাজাকার জাফর ইমামের নামটি বাদ দেয়ার জন্য আন্দোলনে নামেন।