দৌড় শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল শিশু শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০   

শৈলকূপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

শিশুটির স্বজনের আহাজারি। ছবি: সমকাল

শিশুটির স্বজনের আহাজারি। ছবি: সমকাল

প্রথম স্থান অধিকারের পুরস্কার নেওয়া হলো না ছোট্ট মিরাজ হোসেন রাফিনের। চামচে মারবেল রেখে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। বুধবার বিকেলে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকূপার উমেদপুর স্কুল মাঠে। রাফিন গতকাল শীতকালীন আন্তঃস্কুল প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। চঞ্চল এই শিশুটিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তার পরিবার। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

রাফিন উপজেলার সষ্ঠিবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল ও পার্বতীপুর গ্রামের ফকির মুসল্লির একমাত্র ছেলে। খেলার সময় শিশুটি অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শৈলকূপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে তাকে আর বাঁচানো যায়নি।

সষ্ঠিবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল হোসেন জানান, উমেদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়  সকালে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুখে চামচে মারবেল রেখে ১০০ মিটার ভারসাম্য দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তার আগে তিনি রাফিনকে বলেছিলেন 'মনি' সাবধানে আস্তে আস্তে যাবে। সে উত্তরে বলে, স্যার আপনি চিন্তা করবেন না। দৌড় শেষে সে চামচ গালে রেখেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এরপর তাকে অচেতন অবস্থায় শৈলকূপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সে দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল বলে জানান তিনি। 

শৈলকূপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তৌকির আহম্মেদ বলেন, শিশু রাফিনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন শিক্ষক ও স্বজনরা। শৈলকূপা থানার ওসি বজলুর রহমান বলেন, স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন রাফিন নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।