খুলনাসহ সারা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মজুরি স্কেল-২০১৫ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের মজুরি স্লিপ দেওয়া হয়। এ অনুযায়ী ৪ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহের মজুরি পাবেন তারা। এ জন্য খুশি শ্রমিকরা। একে আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছেন তার। 

এদিকে স্থায়ী শ্রমিকরা নতুন মজুরি স্কেলে স্লিপ পেলেও চলতি মাস থেকে পাটকলগুলোর বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এতে বদলি শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সকালে প্লাটিনাম মিলের শ্রমিকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি স্লিপ বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মিলের মহাব্যবস্থাপক গোলাম রব্বানী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক রমেছা বেগম বলেন, 'নতুন মজুরি স্লিপ আমাদের আন্দোলনের ফসল। আগে আড়াই হাজার টাকা মজুরি পেতাম। নতুন স্কেলে চার হাজার ৪৮৬ টাকা পাব। 

তিনি বলেন, চার ছেলেমেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কেটেছে। তাদের লেখাপড়ার খরচসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেয়েছি। এখন স্লিপ পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।'

মিলের শ্রমিক তৈয়েব আলী তালুকদার বলেন, ১৯৭৬ সালের ৯ ডিসেম্বর পাটকলে যোগদান করি। এখনও কাজ করছি। অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছি। আমাদের প্রাপ্য টাকা এতদিন আটকে রাখা হয়েছিল। অবশেষে মজুরি কমিশন অনুযায়ী মজুরি স্লিপ পেয়েছি।

একই মিলের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে স্লিপ পেয়েছি। আমরা খুশি। কিন্তু কষ্টও রয়েছে। আমাদের সহকর্মী ও ভাই বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। তারা এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।

প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর স্লিপ দেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী সপ্তাহের মধ্যে টাকাও দেওয়া হবে। তবে সম্প্রতি একটি চিঠির মাধ্যমে মিলের বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী শ্রমিকের অবর্তমানে কাজ করেন বদলি শ্রমিক। তারা না থাকলে মিল চলবে কীভাবে?

প্লাটিনাম জুট মিল সিবিএর সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের ১১ দফা দাবির একটি বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি ১০ দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাটকলে আধুনিক মেশিন বসালে উৎপাদন ক্ষমতা ৩-৪ গুণ বেড়ে যাবে।

পাটকলের কর্মকর্তারা জানান, মজুরি স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে মজুরি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। নতুন মজুরি স্কেল অনুযায়ী এক সপ্তাহের মজুরি প্রায় ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আগে ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

প্লাটিনাম জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক গোলাম রব্বানী বলেন, শ্রমিকরা মজুরি স্লিপ পেয়েছেন। অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদের টাকা দেওয়া হবে। সবার ঐকান্তিক চেষ্টায় মিল টিকিয়ে রাখতে হবে। 

বদলি শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন কম থাকায় বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে সম্প্রতি বিজেএমসি থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।