ভালোবেসে মাত্র দু'মাস আগে বিয়ে করে ঘর বেঁধেছিলেন মাহবুব ইসলাম ও রুনিয়া আক্তার খাদিজা। স্বপ্ন ছিল সুখের সংসার গড়ার। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্নের করুণ পরিণতি ঘটেছে। এই যুগল মারা গেলেন একসাথে। 

বৃহস্পতিবার ভোরে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুব ও খাদিজা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতেন তারা। 

নিহত মাহবুব (২৭) ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার গুপ্তেরগাঁও গ্রামের আবুল কালামের ছেলে এবং খাদিজা নেত্রোকোনার মদন থানার হাসানপুর গ্রামের আবদুল আজিজের মেয়ে। এ ঘটনায় দুই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত সোমবার দুপুরে ফতুল্লার বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার ওহাব সরদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাহবুবের স্ত্রী খাদিজা ছাদে কাপড় শুকাতে যান। ওই সময় ভবনটির ওপর দিয়ে যাওয়া এক লাখ ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে বিদ্যুতায়িত হয়ে খাদিজার শরীরে আগুন ধরে যায়। স্ত্রীর চিৎকার শুনে ছুটে যান মাহবুব। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে ঝলসে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু'জনকেই উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে বিসিক ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান এই নবদম্পতি।

নিহত মাহবুবের মামা আলিম উদ্দিন জানান, তার ভাগ্নে বিসিকের একটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। আর খাদিজাও একই গার্মেন্টে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দুই মাসে আগে পরিবারের অমতে নিজেরাই বিয়ে করে সংসার বাঁধেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, বিদ্যুৎস্পর্শে দগ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে দু'জনই মারা যান।