'গোয়িং টু বাংলাদেশ আফটার টোয়েন্টিফোর ইয়ার্স' লিখে সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন রুহুল আমিন (৩৪)। দেশে ফেরার ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে বিদায় জানাতে আসা বন্ধুদের সঙ্গে নিজের ছবি আপলোড করেন একই স্ট্যাটাসে। তখন কে জানত এটিই হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার শেষ স্ট্যাটাস! বুধবার ঢাকায় বিমান থেকে নেমে নিজ বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার যাওয়ার পথে রাতে হবিগঞ্জের মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ফেরত রুহুল।

২৪ বছর পর দেশে ফেরা ছেলেকে অভ্যর্থনা জানাতে বুধবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছুটে যান বাবা আলিম উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন নিহত যুবকের ছোট তিন ভাই। বিয়ানীবাজার থেকে ভাড়া নেওয়া মাইক্রোবাসে

বিয়ানীবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুরে আসার পর বিপরীতগামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাস দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান রুহুল। তার বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার খশির নামনগর গ্রামে। দুর্ঘটনায় নিহত রুহুলের বাবা আলিম উদ্দিন (৬২), ছোট দুই ভাই নুরুল আমিন (২৮) ও ফখরুল আমিন (২৬), মামাতো ভাই এমরান আহমদ এবং মাইক্রোবাস চালক বাদশাহ মিয়া (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে লাশ বাড়িতে আনা হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বৃদ্ধ মাসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিলাপ করেন। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। এমন দুর্ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। উপজেলাজুড়ে বইছে শোকের মাতম।

নিহতের স্বজনরা জানান, নাগরিকত্বের (গ্রিন কার্ড) আশায় রুহুল আমিনের ২৪টি বছর কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অবশেষে নাগরিকত্ব পাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দেশের পথে যাত্রা করেন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সময় রাত পৌনে ১০টায়। দেশে পৌঁছান বুধবার বিকেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বৈরাগীবাজার সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে হাজারো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ সমাহিত করা হয়।