জন্মের সময় দৃষ্টিশক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আসেন চার ভাই ও এক বোন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শিশুকাল পার করে কিশোর বয়সে পা রাখতেই হারিয়ে ফেলেন দৃষ্টিশক্তি। হতদরিদ্র বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া এই চার ভাই ও এক বোন জীবনযুদ্ধে হার মানতে রাজি নন। শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তাদের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে শুরু করেন জীবনের পথচলা। এমনটাই দেখা গেছে ফরিদপুরের নগরকান্দার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের আটকাহনিয়া গ্রামে।

আটকাহনিয়া গ্রামের আবু বকর মুন্সীর ছেলে আ. আজিজ মুন্সি, ওহিদুজ্জামান, ইকবাল হোসেন, জামাল উদ্দিন ও এক মাত্র কন্যা সনিয়া আক্তার। প্রত্যেকেই দৃষ্টি নিয়ে জন্ম নিলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই হারাতে থাকে দৃষ্টিশক্তি। তবে তারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে গেলেও থেমে যায়নি জীবনের পথচলা। স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রত্যেকেই আলাদা সংসার শুরু করেছেন। চার ভাইয়ের একমাত্র বোন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সনিয়া আক্তারকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। চার ভাই সংসারের খরচ জোগাতে গাভী পালন করেন।

কথা হয় জামালের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেক ভাইয়ের দুটি করে গাভী আছে এবং প্রতিটি গাভী থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার দুধ পাই। সেই দুধ বাজারে বিক্রি করে গাভীর খাদ্য ক্রয় করি। উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে সংসার চালাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারি আর কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, চার ভাইকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে রয়েছে।

বিষয় : দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী

মন্তব্য করুন