এখন পাকিস্তান আমাদের অনুসরণ করে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২০   

সিলেট ব্যুরো

শুক্রবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন— সমকাল

শুক্রবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন— সমকাল

পাকিস্তান এখন বাংলাদেশকে অনুসরণ করে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শুক্রবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনের এমপি হিসেবে নিজের এক বছরের মেয়াদে উন্নয়নের ফিরিস্তি ও নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরতে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, 'এখন পাকিস্তান আমাদের অনুসরণ করে। এখন পাকিস্তানের মানুষ তাদের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বলে, আগামী ১৯ বছরে সুইজারল্যান্ড না বানিয়ে বাংলাদেশ বানিয়ে দেখান। অন্তত বাংলাদেশের সমতুল্য হলেই পাকিস্তানের মানুষ খুশি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহু আগেই বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য চিন্তা ও সংগ্রাম করেছিলেন। সেই সুফল আমরা ভোগ করছি।'

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন দেশ নয়; এখন ল্যান্ড অব অপরচুনিটি (সম্ভাবনার দেশ)। এই মুজিববর্ষে সারাবিশ্বকে আমরা তা জানান দিতে চাই। এ জন্য বিশ্বজুড়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে। আগামী মার্চে বঙ্গবন্ধুর ১২৭টি ভাষণ প্রকাশ করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিলেটে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের অর্থ বরাদ্দ হয়ে গেছে। মাস দুয়েকের মধ্যে এর টেন্ডার হবে। এ কাজ দ্রুতই শুরু হবে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়নে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে– এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজের অগ্রগতি অনেক ভালো। সিলেটে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা এরই মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। শিগগিরই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সিটি করপোরেশনকে ১২শ' কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন; যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বরাদ্দ। এই বরাদ্দ সিলেটের সৌন্দর্যবর্ধন এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিলেটকে ডিজিটাল সিটি করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

সিলেটে শিক্ষার মান উন্নয়নে ৬০টি নতুন ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১২৮ কলেজে আড়াই থেকে আট কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়েছে।

হজরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার দৃষ্টিনন্দন করা, সুরমা নদী উদ্ধার, সিলেটের ট্রাক ও বাস টার্মিনালকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট-আখাউড়া রেলপথকে ডুয়েলগেজ করা হবে।

বিমানবন্দরে প্রবাসী যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে প্রত্যেক বিমানবন্দরে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সেবা দিতে প্রতিটি মিশনে একটি অ্যাপস চালু হবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা ৩৩টি সেবা পাবেন। এরই মধ্যে ৫৮টি মিশনে এটি চালু হয়েছে। এ সময় 'অপিরচ্ছন্ন' সিলেট নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ জন্য মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে দায়ী করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিকেল সাড়ে ৩টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নগরীর হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সড়কে দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।