করোনা গুজবে চীনফেরত যুবকের পরিবার একঘরে

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

বরিশাল ব্যুরো

বরিশালের গৌরনদী পৌরশহরে চীনফেরত এক শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার একঘরে হয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে প্রতিবেশীরা কেউ মেলামেশা করছেন না। 

ওই শিক্ষার্থীর নাম হেলাল শিকদার (২৫)। তিনি গৌরনদী শহরের উত্তর পালরদী এলাকার সৌদিপ্রবাসী জালাল শিকদারের ছোট ছেলে। হেলাল চীনের সাংহাই থংচি ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা বিজ্ঞান বিভাগের দশম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। ২০১৫ সাল থেকে তিনি চীনে থাকেন। 

স্বজনরা জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে হেলাল চীন থেকে বাড়িতে ফেরেন। এ খবর জানাজানি হলে ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় গুজব ছড়াতে থাকে যে, হেলাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এরপর থেকে তার পরিবারের সঙ্গে সবধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতিবেশীরা। তার বাড়ির পাশ দিয়ে চলাফেরা করছে না কেউ। এলাকার রিকশাচালকরাও ওই পরিবারের কোনো সদস্যকে ভয়ে রিকশায় তুলছে না। এ কারণে এক সপ্তাহ ধরে তারা অনেকটা একঘরে হয়ে রয়েছেন।

হেলালের বোন নিপা বেগম জানান, তার ভাই চীনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর অনুমতি পেয়ে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরেও তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এরপরও কিছু লোকজন গুজব রটানোয় গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের পরিবার অনেকটা একঘরে জীবনযাপন করছে। এতে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। 

হেলাল শিকদার জানান, চীন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংহাই থংচি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। চীনের সাংহাই বিমানবন্দরে একদফা ও পথে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ট্রানজিট থাকায় সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপরও বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে নিয়ে এলাকায় নানা গুজব ছড়ানো হয়। 

গৌরনদী থানার এসআই খাইরুল আলম জানান, গুজবের খবর পেয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি তার নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল হেলালের বাড়িতে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেছে। দেশে আসার আগে তাকে চীনের চিকিৎসকরাও ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রেখেছিল। সেসব কাগজপত্র পুলিশকে দেখিয়েছেন হেলাল। তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নেই বলে পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, হেলালের বাসায় চিকিৎসকের একটি দল গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়েনি। জ্বর কিংবা হালকা সর্দি-কাশিও নেই তার। বাড়িতে আলাদা একটি কক্ষে আইসোলেশন ওয়ার্ডের মতো ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি অবস্থান করছেন। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৪ দিন পরিবার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন হেলাল। তাকে নিয়ে ভীত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।