চট্টগ্রামে ডাকাতির চেষ্টা হওয়া বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ভল্টের কোনও টাকা খোয়া যায়নি।

শনিবার গভীর রাতে ব্যাংকটির বিশেষজ্ঞরা চট্টগ্রামে পৌঁছার পর ভল্ট খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ ঘটনায় রোববার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে দুইজনকে সন্দেহ করছে তারা।

নগরের ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া বায়তুশ শরফ জিলানী মার্কেটে ব্যাংকটির কদমতলী শাখায় শুক্রবার রাতে দারোয়ানকে অজ্ঞান করে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক সমকালকে বলেন, ব্যাংকের ভল্টের টাকা অক্ষত পাওয়া গেছে। ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করায় সেটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। চাবি দিয়ে খুলছিল না। পরে ঢাকায় তাদের বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়া হলে তারা এসে ভল্ট খোলেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আপাতত দুই ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হচ্ছে; যারা চলতি মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি সংস্থার নামে একই ভবনের পঞ্চমতলার ফ্লোরটি ভাড়া নিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলে এর পেছনে আর কোনও চক্র আছে কিনা তা বেরিয়ে আসবে।

ইউসিবিএল ব্যাংক কদমতলী শাখার ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন মোরশেদ সমকালকে বলেন, 'সিসি ক্যামেরার ফুটেজের হার্ডডিস্কটি খুলে নিয়ে গেছে কেউ। সিসি ক্যামেরাগুলো উল্টানো ছিল। ব্যাংকের ভেতরে কর্মকর্তাদের ড্রয়ারগুলো তছনছ করা হলেও আর কোনও কিছু খোয়া যায়নি। ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত টাকা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ব্যাংক খোলার দিন স্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যেও কোন ধরনের উদ্বেগ ছিল না।'

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ সমকালকে বলেন, 'এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।'

ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের শিফটের নিরাপত্তা প্রহরী এসে দেখেন আগের শিফটের প্রহরী অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে অচেতন নিরাপত্তা প্রহরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ব্যাংকের অফিস থাকা পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনটির মালিক আবদুল হাই। ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ইউসিবিএল ব্যাংকের কদমতলী শাখা অবস্থিত। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভবনটির পঞ্চম তলার ফ্লোরটি বেসরকারি একটি সংস্থার নামে ভাড়া নেওয়া হয়। ফ্লোরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করার নামে দুইজন সেখানে অবস্থান করছিলেন। তারা ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন রাতে প্রহরীকে পঞ্চম তলায় নিয়ে চা খাওয়ান ওই দুইজন। এরপর তিনি ফিরে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সুযোগে তারা ব্যাংকের কলাপসিবল গেইটের তালা কেটে ডাকাতির চেষ্টা করেন। ধারণা করা হচ্ছে- পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাবারের সঙ্গে অজ্ঞান করার ওষুধ মিশিয়ে নিরাপত্তা প্রহরীকে খাইয়েছিলেন তারা।

ভবনটির নিচতলায় থাকা একটি যন্ত্রাংশের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার রাত ৩টা ৫১মিনিটে দুই ব্যক্তি ব্যাংকের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসেন। তারা নিচতলায় সিঁড়ির মুখে কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে চলে যায়। দুইজনের মধ্যে একজনের কাঁধে একটি ব্যাগ ছিল।