ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার নকল সরবরাহ করতে সম্মত না হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই ছাত্রীসহ তিন পরীক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

রোববারের এ ঘটনায় আহত দুই ছাত্রীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে এবং অন্য ছাত্রকে কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত দুই ছাত্রীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের পরবর্তী পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল সরবরাহ করা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলো কসবার সৈয়দাবাদ মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সৈয়দাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার (১৬), তন্নি আক্তার (১৬) ও মো. আসিফ মিয়া (১৬)। তাদেরকে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় সোনিয়া আক্তার ও তন্নি আক্তারকে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতদের পরিবার, উপজেলা প্রশাসন, বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দাবাদ মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ে। রোববার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা ছিল। এ পরীক্ষায় গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের একজন আত্মীয় বাইরে থেকে জানালা দিয়ে নকল সরবরাহ করতে সৈয়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থীকে অনুরোধ জানান।

এ সময় ওই পরীক্ষার্থী রাজি না হওয়ায় পরীক্ষা হলে তাকে মারধর করে গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা। সৈয়দাবাদ মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মন্সুর খানসহ পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি কেন্দ্র সচিব ও গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হককে জানান। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। 

পরে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় আবারও গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষর্থীরা এবং গ্রামের কিছু বখাটে ছেলে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদেরকে বেধরক মারধর করে। এতে সৈয়দাবাদ মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী আহত হয়। খবর পেয়ে কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সৈয়দাবাদ মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মন্সুর খান বলেন, জানালা দিয়ে গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহে রাজি না হওয়ায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, গুরুতর আহত দুই পরীক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার ও তন্নি আক্তারের পরবর্তী পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো. জহিরুল হক বলেন, বিষয়টি জানানোর পর পরীক্ষার্থীসহ অন্যরা বিদ্যালয় থেকে চলে যায়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনিসহ বিদ্যালয়ের অন্যশিক্ষকরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে দাবি করেন।

গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহীদবাবুল উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এস.এম মান্নান জাহাঙ্গীর বলেন, একজন পরীক্ষার্থী অন্যপরীক্ষার্থীর খাতা দেখানোকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়েছে।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নকল সরবরাহ করতে গোপীনাথপুর শহীদ বাবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন পরীক্ষার্থী অনুরোধ জানালে রাজি হয়নি সৈয়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থী। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মনিরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন পরীক্ষার্থী আহত হয়েছে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কেন্দ্র সচিবসহ অজ্ঞাত ৩০ জনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।