উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুষ্টিয়া জেলা থেকে সব ধরনের অবৈধ যান তৈরির কারখানা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। ইতোমধ্যে জেলার সব নছিমন, করিমন ও ভটভটি তৈরির কারখানা মালিককে ডেকে সময় বেঁধে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। না মানলে কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে মামলাসহ জরিমানা এমনকি কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হবে। পুলিশের এ উদ্যোগে মালিকরা নাখোশ হলেও খুশি সাধারণ মানুষ।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, জেলায় তারা ৭০টি কারখানা খুঁজে পেয়েছেন। এসব কারখানা মালিকের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। সবাইকে ডেকে এক মাসের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

নছিমন, করিমন ও ভটভটির কারণে প্রতিবছর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বেশি অবৈধ যানবাহন তৈরির কারখানা রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাজারে। পুরো জেলায় রয়েছে শতাধিক। এসব কারখানায় প্রতি মাসে শত শত নছিমন, করিমন ও ভটভটি তৈরি হচ্ছে। চীন থেকে শ্যালো ইঞ্জিন এনে নিজেদের মতো যানবাহন তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এমনকি ছোট ছোট ট্রাক তৈরি করা হচ্ছে এসব কারখানায়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ভাদালিয়া বাজারের সবচেয়ে বড় অবৈধ যানবাহন তৈরির কারখানার মালিক আব্দুর রশিদ। এ ব্যবসা করে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আব্দুর রশিদ বলেন, জেলায় সব মিলিয়ে ছোট-বড় শতাধিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদন চলছে। পুলিশ সুপার ডেকে এক মাসের মধ্যে কারখানা বন্ধ করতে বলেছে। আমরা দুই মাস সময় চেয়েছিলাম।

এর আগে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন থেকে এসব কারখানাসহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাধা হয়ে দাঁড়ান রাজনৈতিক দলের কিছু সুবিধাবাদী নেতা, যারা প্রতি মাসে এসব কারখানা থেকে মাসোহারা পান।

নছিমন চালক ও মালিকরা জানান, গ্রামীণ সড়কে তাদের চলাচলের অনুমতি আছে। তবে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, মহাসড়কে যানবাহন চালানো যাবে না। তার পরও তারা ম্যানেজ করে চলেন।

কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের কার্যকরী সভাপতি আতাহার আলী বলেন, 'সড়কে শত শত অবৈধ নছিমন-করিমন চলছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে নছিমন-করিমনের কারণে। তাই পুলিশ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনে সহযোগিতা করব।'

এদিকে, পুলিশের আলটিমেটাম পাওয়ার পর অবৈধ যানবাহন মালিকরা যান স্থানীয় সাংসদ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের কাছে। তিনিও কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সব অবৈধ যানবাহনের কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাসের মধ্যে সব কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।