বাজারে আসছে 'সুন্দরবন পানি'

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

খুলনা ব্যুরো

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে বাজারে আসছে খুলনা ওয়াসার 'সুন্দরবন পানি'। ভোক্তাদের কাছে বোতলজাত এই পানি পৌঁছে দিতে বাজারজাত প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াসা। এখন চলছে পরিবেশক নিয়োগ কার্যক্রম। সব ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এই পানি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে আশা করছে ওয়াসা।

খুলনা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় বোতল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। এর নাম দেওয়া হয় 'সুন্দরবন পানি'। এজন্য নগরীর রায়ের মহল এলাকার জলিল সরণির পাশে ১৫ দশমিক ৩৭ কাঠা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় বোতল তৈরির কারখানা ও পানি পরিশোধন কেন্দ্র। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এসব নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এরপর বাজারজাত করতে গেলে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বিএসটিআই। প্রায় এক বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর বিএসটিআই এই পানি বাজারজাত করার অনুমোদন দিয়েছে। 

সূত্রটি আরও জানায়, এই কেন্দ্রে প্রতি ঘণ্টায় ৮ হাজার লিটার পানি উৎপাদন হবে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে ৬৪ হাজার লিটার পানি উৎপাদন হবে। বিভিন্ন অপচয়ের পর এর মধ্যে ৬ হাজার ৪৫০ লিটার পানি বোতলজাত করা হবে। ৩০০ মিলি, ৫০০ মিলি, ১ লিটার, ২ লিটার, ৩ লিটার, ৫ লিটার বোতল এবং ২০ লিটার জারে করে পানি বাজারজাত করা হবে। প্রতিদিন মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮০ বোতল পানি বোতলজাত করা হবে।

ওয়াসার প্রকল্প এম ডি কামাল উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন ছিলো। বিএসটিআই অনুমোদনের জন্য অনেক সময় নিয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আমরা ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি খুলনা বিভাগের কোথাও এই ধরনের প্রযুক্তি নেই। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উৎপাদিত সুন্দরবন পানি হবে বাজারের সেরা পানি। কুয়েটসহ বিভিন্নস্থানে পানির মান পরীক্ষা করা হয়েছে। নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিনই এটা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে সবকিছুর অনুমোদন পাওয়া গেছে। আমরা পানি বাজারজাত করার জন্য পরিবেশক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মার্চের মধ্যেই যাবতীয় কাজ শেষে এপ্রিলের শুরুতে এই পানি বাজারে আসবে।