ডেপুটেশনে চলছে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

নাসিরনগরে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- সমকাল

নাসিরনগরে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- সমকাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিটি ডেপুটেশনের চিকিৎসক দিয়ে চলছে। ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্থলে ডেপুটেশনের পাঁচজন চিকিৎসক নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। 

উপজেলা সদরের মহিন্দুরা ব্রিজ সংলগ্ন সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ৩ একর জমির ওপর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নির্মাণ করা হয়। রয়েছে ৫তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, অডিটরিয়াম কাম শিক্ষক ডরমেটরি, দুইতলা বিশিষ্ট প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার, ৫তলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম কর্মচারী ডরমেটরি, একটি ছাত্র হোস্টেল, একটি ছাত্রী হোস্টেল, একতলা বিশিষ্ট ছোট প্রাণি এবং বড় প্রাণির জন্য একটি ফার্ম অফিস, একটি পাম্প হাউজ, একটি গাভীর শেড, একটি ছাগলের শেড, একটি হাঁসের শেড ও একটি মুরগীর শেড। তবে এখানে নেই শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য কোন খেলার মাঠ। 

ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯৯ শতাংশ। একাডেমি ও প্রশাসনিক ভবন, অডিটরিয়াম কাম শিক্ষক ডরমেটরি, পাঁচতলা বিশিষ্ট ছাত্র হোস্টেল ও ছাত্রী হোষ্টেল ভবন বুঝে পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাকি ভবনগুলো এখনো বুঝে পায়নি। 

তবে নির্মাণকাজে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে অনেক আগইে। চাইলে যে কোন সময় ভবন বুঝিয়ে দিতে পারবে তারা। 

এদিকে গেল বছরের জানুয়ারিতে ১ম ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্মাণকাজ সমাপ্ত না হওয়ায় গাইবান্ধা ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় এ ইনস্টিটিউটে ২য় ধাপের ৪৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। ১ম ধাপের ৫০ জন শিক্ষার্থী গাইবান্ধা থেকে চলে যাবে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই। তখন পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা কঠিন হয়ে যাবে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডেপুটেশনে কাজ করা একাধিক শিক্ষক।

জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৩০ এপ্রিল প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। পরে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাসিরনগর উপজেলায় নির্মিত ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স  অ্যান্ড টেকনোলজির শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় মন্থরগতিতে চলছে ইনস্টিটিউটের পাঠদান কার্যক্রম। পাঁচজন ভেটরিনারি সার্জন ও চিকিৎসককে ডেপুটেশনে এনে এ ইনস্টিটিউটের পাঠদান কাজ করা হচ্ছে। তারা হলেন-কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার পশু হাসপাতালের ডা. মোস্তাফিজুর রহমান,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পশু হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন নূরে আলম, বাঞ্চারামপুর পশু হাসপাতালের ডা. মো. আবু তাহের, কুমিল্লা কৃত্তিম প্রজনন কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন। আর অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম সাইফুজ্জামান। অথচ এই ইনস্টিটিউটে (রাজস্ব খাতে) প্রয়োজন একজন প্রিন্সিপাল, একজন চীপ ইন্সট্রাক্টর, আটজন সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর, একজন ভেটনারি সার্জন, একজন এনিমেল প্রোডাকশন অফিসার, বারোজন ইন্সট্রাক্টর লাইভস্টক, দুইজন ইন্সট্রাক্টর সায়েন্স, একজন ইন্সট্রাক্টর (হিউম্যানিটিস), একজন সহকারী প্রোগ্রামার, ছয়জন জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর, একজন লাইব্রেরিয়ান, সাতজন ডেমনস্ট্রেটর, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন কম্পিউটার অপারেটর, একজন ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর, একজন ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডার, একজন ফিল্ড অ্যাসিসটেন্ট (এআই), একজন অ্যাকাউনটেন্ট, একজন স্টোর কিপার, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, একজন ইলেকট্রিশিয়ান, একজন প্লাম্বার, একজন পাম্প অপারেটর। 

অপরদিকে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে দশজন ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, একজন হোস্টেল অ্যাটেনডেন্ট (বালক), একজন হোস্টেল অ্যাটেনডেন্ট (বালিকা), ছয়জন অফিস সহায়ক, একজন মালি, একজন বাবুর্চি, একজন সহকারী বাবুর্চি, তিজন নিরাপত্তা প্রহরী, তিনজন পরিছন্নতা কর্মীর প্রয়োজন হলেও কিছুই নেই এই প্রতিষ্ঠানে। ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এত বড় প্রতিষ্ঠানে সরকারীভাবে কোন জনবল নেই এটা খুবই হতাশার। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় আমাদের পাঠদান তুলনামূলক ভাল হচ্ছে না।

জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম সাইফুজ্জামান সমকালকে বলেন, নাসিরনগরের ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজস্ব খাতে ৩ ধাপে ৮০টি পদের প্রস্তাব করেছে। ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সম্মতির আলোকে ১২ জন স্থায়ী ক্যাডার ও ৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারীর পদের সুপারিশ করেন। 

খুব তাড়াতাড়ি জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির দায়িত্বে থাকা এ কর্মকর্তা।