নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে মাদকাসক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

সাভারের আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে মাদকাসক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে

সাভারের আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে মাদকাসক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে

সাভারের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জাহাঙ্গীর ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বুড়িকান্দি গ্রামের প্রয়াত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনিতে থাকতেন। বড় ভাই মানিকের সঙ্গে তিনি হোটেল চালাতেন বলে পরিবারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ। তবে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

জাহাঙ্গীরের বড় ভাই মানিক জানান, জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তাকে মাদক থেকে ফেরাতে সাভারের 'আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র'-এ যোগাযোগ করা হয়। সেখানকার লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে জাহাঙ্গীরকে নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যান। শুক্রবার সকালে নিরাময় কেন্দ্রের মালিক জুয়েল মোবাইল ফোনে তাদের জানান জাহাঙ্গীর অসুস্থ, তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা জাহাঙ্গীরকে মৃত অবস্থায় পান।

মানিক দাবি করেন, চিকিৎসার নামে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনেই তার ভাই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে।

এনাম মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেরাজুর রেহান বলেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জুয়েল নামে এক ব্যক্তি মৃত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃহদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের কারণে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাকিটা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে আদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে লাবিব নামে এক যুবক সেখানকার কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।