চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নতুন নয়। আমাদের মনে আছে, ২০১৩ সালের আগস্টে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলন্ত ট্রেনে 'খেলাচ্ছলে' ছোড়া পাথরে প্রকৌশলবিদ্যার ছাত্রী প্রীতি দাশ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ট্রেনের টিকিট চেকার শিকদার বায়েজিদও একইভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে এমন ঘটনায় আহতের তালিকাও অনেক দীর্ঘ হয়েছে। শনিবার সমকালে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ, রাজশাহী-ঈশ্বরদী-পাবনাগামী ঢালারচর এক্সপ্রেস টেনে পাথর নিক্ষেপে এক দিনেই ভেঙেছে ১৮টি জানালা। কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

শুধু তা-ই নয়, ঢালারচরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ট্রেনে উঠে পড়ছে; কখনও কখনও নিজেরা লিপ্ত হচ্ছে সংঘাতে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু যে যাত্রী নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়েছে তাই নয়, ওই রেলপথে রেল চলাচলে দেখা দিয়েছে গুরুতর সংকটও। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে প্রয়োজন আইনি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মানুষের যূথবদ্ধ উদ্যোগ। আমরা জানি, ঈশপের গল্পের কিশোররা দলবেঁধে খেলাচ্ছলে পুকুরে ঢিল ছুড়ত ব্যাঙকে নিশানা করে। ঈশপের গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনার। তাদের নিশানা মানুষ, ব্যাঙ নয়। ইতোপূর্বে এমন ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছিল। রেলওয়ে আইন অনুযায়ী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপকারীর সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে পাথর নিক্ষেপে কারও মৃত্যু হলে আইনের ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে। যদিও এসব আইনে এখন পর্যন্ত কারও শাস্তির নজির নেই। শুধু আইন বা দোষীদের গ্রেপ্তার করে কিংবা রেল কর্তৃপক্ষের হাতে এই দায়িত্ব দিয়ে বসে থাকার যে আর অবকাশ নেই, ঢালারচর এক্সপ্রেসের ঘটনা তাই মনে করিয়ে দিল। যেসব জনপদের মধ্য দিয়ে রেলপথ গেছে, সেসব এলাকার সচেতন সবার দায়িত্ব রয়েছে। যারা এমন নিষ্ঠুরতাকে খেলা মনে করছে, বিষয়টি যে ভয়ংকর, তা তাদের বোধে আনতে হবে। যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিহ্নিত স্থানগুলোতে বাড়াতে হবে নজরদারি।