যশোরে ঠিকাদারকে অপহরণ

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

যশোর অফিস

দর্শনা শুল্ক স্টেশনের জন্য স্ক্যানার মেশিন কেনার টেন্ডারে অংশ নেওয়ায় এক ঠিকাদারকে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে।  মঙ্গলবার যশোর কাস্টমস এপাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের সামনে থেকে ওই ঠিকাদারকে অপহরণ করা হয়।

মেহেদী হাসান স্বপন নামে ওই ঠিকাদার মুক্ত হওয়ার পর সন্ধ্যায় যশোর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে তিনি আড়াইশ' শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। মেহেদী হাসান স্বপনের বাড়ি মাগুরার সীমাখালী উপজেলায়।

যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যশোরের কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, পুলিশ পাহারায় দরপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। অফিস অভ্যন্তরে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। অফিস ক্যাম্পাসের বাইরে কিছু ঘটে থাকলে সেটা তাদের জানা নেই।

ঠিকাদার মেহেদী হাসান স্বপন অভিযোগ করেন, এই কাজের দরপত্র দাখিলের জন্য তিনি মঙ্গলবার সকালে কাস্টমস অফিসে যান। সন্ত্রাসীদের নিষেধ উপেক্ষা করে তিনি দুটি সিডিউল জমা দেন। এর পর শহরতলির খোলাডাঙ্গার বাসিন্দা রাকিব হাসান শাওন তাকে কৌশলে অফিসের বাইরে ডেকে আনেন। অফিসের গেটে পৌঁছা মাত্র শাওনের আরও ৭-৮ জন সহযোগী তাকে মারধর করে শাওনের জিপগাড়িতে তুলে ঝুমঝুমপুরের একটি গুদামঘরে নিয়ে আটকে রাখে। গাড়িতে এবং ওই গুদামঘরে তাকে হকিস্টিক দিয়ে মারধর চালানোর পর দুপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, আগের রাতে শাওন তাদের ফোন করে দরপত্র জমা না দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এ সময় শাওন তার বন্ধু সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুলের নামও ব্যবহার করেন। অবশ্য সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, তিনি এ ধরনের কাজে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কেউ তার নামে মিথ্যা প্রচারণা চালাতে পারে।

এর আগে শাওন টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর মৎস্য বিভাগের ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়।