গৌরনদীতে ছাত্রদল নেতা ভিপি জাকির গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি গৌরনদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মো. জাকির হোসেন রাজা ওরফে ভিপি জাকিরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে ২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে। তবে ভিপি জাকিরের বাবা বলছেন, তার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার।

বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশের এসআই মো. নোমান জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোর্সসহ উপজেলার বানিয়াশুড়ি গ্রামে ভিপি জাকিরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার  ঘর থেকে ২২পিস ইয়াবা উদ্ধার ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত পৌনে ১টার দিকে ইয়াবাসহ তাকে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ডিবি পুলিশের দেওয়া তথ্যকে মিথ্যা দাবি করে ভিপি জাকিরের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য মো. কাঞ্চন আলী সরদার বলেন, আমার ছেলে রাজনীতি করে। সে ইয়াবা সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত নয়। গৌরনদী উপজেলা ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরে আমার ছেলে তার দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাজ করছিল। এ কারণে বাড়িতে দলীয় কর্মীরা ঘন ঘন আসা-যাওয়া করছিল। বুধবার সন্ধ্যার পরে সে তার দলীয় এক কর্মীর সঙ্গে সম্মেলনের কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করছিল। এ সময় বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশের একটি টিম হঠাৎ এসে বাড়ি ঘেরাও করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করে। এর এক পর্যায়ে তারা বলে যে, খাটের নিচে কাগজে মোড়ানো ২২ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। এরপর তারা জাকিরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। 

তিনি আরও বলেন, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। এর পেছনে তার নিজ দলীয় প্রতিপক্ষ ও সরকারি দলের কতিপয় নেতা-কর্মী রয়েছে, যারা সম্মেলনে আমার ছেলের দলীয় পদ পাওয়া ঠেকাতে চায়। তারাই ডিবি পুলিশ ব্যবহার করে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। 

ভিপি জাকিরের বাবার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের এসআই মো. নোমান বলেন, আমার চাকরি জীবনে কাউকে অহেতুক ফাঁসানোর রেকর্ড নেই। ভিপি জাকিরকে বাঁচাতে আসামি পক্ষ ফালতু অভিযোগ করছে।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, ভিপি জাকিরকে বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত করে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।