ঝুড়ি থেকে উদ্ধার শিশুর নাম রাখা হলো ‘একুশ’

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

একুশে ফেব্রুয়ারি রাতের প্রথম প্রহরে বাড়ির সামনে ফুটফুটে নবজাতক মেয়েটিকে পাওয়া গেল। তাই ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় শিশুটির নাম রাখা হলো 'একুশ'। এ নামেই গলাচিপা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ওয়ানা মার্জিয়া নিতুর কোলে মেয়ের স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হয়ে উঠবে। সবার মুখ উজ্জ্বল করবে। একুশ হবে আগামী প্রজন্মের গর্বিত নাগরিক। এমনটাই প্রত্যাশা সদ্য আরেকবার মায়ের অনুভূতি পাওয়া নিতুর। তিনিই শিশুটির নাম রেখেছেন।

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার তিনবারের মেয়র প্রয়াত আবদুল ওহাব খলিফার মেয়ে ওয়ানা মার্জিয়া নিতু (৩৭) একুশের প্রথম প্রহরে নেতাকর্মীদের নিয়ে স্থানীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাসভবনে ফিরে আসেন। খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। বাসায় দুটি বিড়াল ছানা রয়েছে। প্রথমে মনে করেছিলেন, বিড়াল ছানারা কাঁদছে। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরও যখন কান্না থামছে না, তখন স্বামী প্রিন্সকে নিয়ে উঠে পড়েন। দরজা খুলে দেখেন সামনেই পড়ে আছে ফলের প্লাস্টিকের একটি ঝুড়ি। কান্নার উৎস সেখানেই। গিয়ে দেখেন, এর মধ্যে একটি নবজাতক কাঁদছে। তাৎক্ষণিক শিশুটিকে তিনি মায়ের মমতায় কোলে তুলে নেন। ততক্ষণে শুক্রবারের ভোরের আলো ফুটে ওঠে। সদ্যজাত শিশুটিকে নিয়ে ছুটে যান গলাচিপা হাসপাতালে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা সেরে বিষয়টি জিডি আকারে থানা পুলিশকে জানান। স্থানীয় প্রশাসনকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়।

মার্জিয়া নিতু বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি এক-দু'দিন আগে জন্ম নিয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত শিশুটির মা-বাবাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বা কেউ দাবিও করেনি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শিশুটিকে নিজের মেয়ে হিসেবে গড়ে তুলব। এ জন্য রোববার পটুয়াখালী পারিবারিক আদালতে অভিভাবকত্বের জন্য আবেদন জানাব। পরিবারের সবাই শিশুটিকে আপন করে নিয়েছে। এ ছাড়া প্রকৃত অভিভাবকের খোঁজ চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে শিশুটিকে কুড়িয়ে পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। শত শত মানুষ শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাসায় ভিড় জমাচ্ছে।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ওসি আখতার মোর্শেদ জানান, থানায় শিশুটির বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আপাতত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে শিশুটি রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।