চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণ: তদন্তের শুরুতেই হোঁচট

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২০   

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের পুলিশ বক্সের বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে নেমে শুরুতে হোঁচট খেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পাঁচ বছর আগে অপরাধী শনাক্তে নগরজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল নগর পুলিশ। কিন্তু বিস্ফোরণের ঘটনার পর ফুটেজ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় নগরজুড়ে লাগানো অধিকাংশ ক্যামেরা অকেজো হয়ে আছে।

বিস্ফোরণস্থলের কোন ফুটেজ সংগ্রহ করতে না পারায় অপরাধী শনাক্তে অন্য প্রযুক্তিগত পদ্ধতির পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিরও আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সবগুলো সিসি ক্যামেরা সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত শুক্রবার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেইট পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হন। একদিন পর হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় আইএস।

নগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের তত্ত্বাবধানে নগরের বিভিন্ন স্থানে ১২৪টি ক্যামেরা রয়েছে। এরমধ্যে সচল আছে মাত্র ২৫টি। ২৯টি আইপি ক্যামেরার মধ্যে সচল আছে ১৯টি। ৭৫টি সাধারণ ক্যামেরার মধ্যে সচল আছে মাত্র ৬টি। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা চারটি ক্যামেরার একটিও সচল ছিল না।

নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, ‘ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে হয়তো দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা যেত। অন্তত পুলিশ বক্সে ঢুকে কে বা কারা বোমা রেখে গেছে তা জানা সহজ হতো।’

সিএমপি সূত্র জানায়, নগরের ২ নম্বর গেইট এলাকায় পুলিশের স্থাপন করা চারটি সিসি ক্যামেরা ছিল। ঘটনার পর ফুটেজ খুুঁজতে গিয়ে শুরুতে ক্যামেরার অবস্থানও শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পরে খোঁজাখুজির পর চারটি ক্যামেরা শনাক্ত করা গেলেও সবগুলি অকেজো পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের অদূরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, ‘কিছু ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখান থেকে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সহজে অপরাধী শনাক্তে ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম নগরে সিসি ক্যামেরা লাগানো শুরু হয়। তৎকালীন নগর পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল পুরো চট্টগ্রাম নগর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ঘোষণা দেন। নগর পুলিশ নিজেদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। বেসরকারি পর্যায়েও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।