গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইতিহাস বিভাগের অনুমোদনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জামায়াত-শিবির বলার অভিযোগে উপাচার্যসহ প্রায় ৩০ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের ৫০১ নম্বর কক্ষে উপাচার্যের সভাপতিত্বে শিক্ষক-কর্মকর্তারা মুজিববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভায় বসেন। সেখানেই তাদের অবরুদ্ধ করা হয়। রাত পৌনে ৯টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কারিমুল হক বলেন, উপাচার্য ও প্রক্টরসহ অন্যদের সামনে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ওয়ালিদ মিয়া তাদের জামায়াত-শিবির বলেছেন। এর প্রতিবাদে ও বিভাগের অনুমোদনের দাবিতে উপাচার্যসহ ৩০ জনকে অবরুদ্ধ করেছিলেন তারা।

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ওয়ালিদমিয়া বলেন, 'আমি কাউকে জামায়াত-শিবির বলিনি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ মার্চ মুজিববর্ষ উদযাপন করতে চাই। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে তালা দিয়েছেন। তাই আমি বলেছি, মুজিববর্ষ উদযাপন করতে না পারলে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হবে। তাই শিক্ষার্থীদের মুজিববর্ষের কর্মসূচি পালনে সহায়তা করতে বলেছি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেছেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের ব্যাপারে আলোচনা করতে শিক্ষক, কর্মকর্তাদের নিয়ে অ্যাকাডেমিক ভবনে বৈঠকে বসেছিলেন তারা। সেখানে তাদের অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেছিলেন তিনি।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক বৈঠক হয়। সেখানে ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। ওই দিন রাতেই এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এরপর থেকেই চলছে আন্দোলন। বর্তমানে বিভাগটিতে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন।