স্বামী ও ননদের নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই মোন্নাপাড়া গ্রামের এক সন্তানের মা নুরবানু খাতুন (২৫)। 

বৃহস্পতিবার নির্যাতনের পর গৃহবধূ নুরবানুকে উদ্ধার করে প্রথমে কালাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরকীয়ার অভিযোগে ঘরের মধ্যে আটকে স্বামী মিনহাজুল ও ননদ চামেলি বেগম তাকে লাঠি ও চামড়ার বেল্ট দিয়ে সারা শরীরে মারধর এবং লাথি-ঘুষি দেয়। এতে নুরবানুর হাত-পাসহ পুরো শরীরে রক্ত জমে কালো দাগ হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কালাই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

নুরবানুর বাবা কালাই উপজেলার সমশিরা গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, জামাই মিনহাজুলের ফোন পেয়ে মেয়ের বাড়ি গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার মেয়ে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। অচেতন নুরবানুকে তিনি কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে নিয়ে যান।

কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ইমতিয়াজ জামান জানান, তার ইনজুরির তীব্রতা অনেক বেশি। শুক্রবার তার প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নুরবানুর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। মেয়েটাকে বড় শখ করে বিয়ে দিয়েছিলাম। স্বামীর ঘরে ছয় বছরের একটি মেয়েও আছে। মিথ্যা অভিযোগ এনে ওরা আমার মেয়েটার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে নুরবানুর স্বামী মিনহাজুলের কাছে স্ত্রীকে মারধর করার কারণ জানতে চাইলে একটু পরে জানাচ্ছি বলে তিনি ফোন কেটে দেন। কালাই থানার ওসি আব্দুল লতিফ খান বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।