চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

নৌকা-ধানের শীষেরও প্রচারে কাউন্সিলর প্রার্থীরা

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারে 'ভাগ বসাচ্ছেন' দুই দলের দুই মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও ডা. শাহাদাত হোসেন। কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারের পাশাপাশি প্রচার চালাচ্ছেন নিজ নিজ দলের মেয়র প্রার্থীদেরও। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাইকিংয়ে নিজেদের প্রতীকের পাশাপাশি দলের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও তার প্রতীক 'নৌকা'র প্রচার চালাচ্ছেন। একইভাবে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের প্রতীকের পাশাপাশি প্রচার চালাচ্ছেন দলটির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ও তার প্রতীক 'ধানের শীষের'। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, দুই দল থেকেই কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিষয়টিকে অলিখিতভাবে বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে। এ থেকে অবশ্য শুধু মেয়র প্রার্থীরাই নন, লাভবান হচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। কারণ দুই দলের মেয়র প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক পেলেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পাননি। বিভিন্ন ধরনের প্রতীক পেয়েছেন তারা। প্রচারে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের পাশাপাশি দল-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রতীকও তুলে ধরছেন তারা।
এদিকে, চট্টগ্রামে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারে মুখর বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণসংযোগ করছেন তারা। চষে বেড়াচ্ছেন নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত।
অন্যান্য দিনের মতো গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা তুমুল প্রচার চালিয়েছেন। এলাকায় এলাকায় সশরীরে গণসংযোগের পাশাপাশি চলছে মাইকিংও। ফলে রাজপথ থেকে অলিগলি- সর্বত্রই এখন শুধু নির্বাচনী আমেজ। জুমার নামাজ শেষে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে মসজিদে লিফলেট বিলি করতে দেখা গেছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এলাকাভিত্তিক নেতাকর্মীরা নিজ নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে এসব লিফলেট বিতরণ করে ভোট চান।
প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা দিলেন রেজাউল :অপশক্তির অপতৎপরতা প্রতিরোধে নগরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। এ সময় তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বার্তাও তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের যে বার্তা দিয়েছেন তার সারমর্ম হলো- চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে, তা আজ দৃশ্যমান। কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা সেতু, মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন, চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ হয়ে ঘুনধুম পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তবতার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখতে, নগরবাসীর স্বপ্ন পূরণে নৌকা প্রতীকে ভোট চাই।'
গতকাল নগরীর বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন রেজাউল করিম। তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে নৌকায় ভোট চান। এরপর ট্রাকে করে সিটি করপোরেশনের ২৩, ২৮ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু, উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইসহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক চন্দন ধর, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আবদুল আহাদ প্রমুখ।
শাহাদাতের প্রচারে 'ভাড়াটিয়া'দের স্বার্থরক্ষার প্রতিশ্রুতি :দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে গতকাল নগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড চষে বেড়িয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের স্বার্থরক্ষায় ভূমিকা রাখাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
গতকাল ৩৮ নম্বর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের সল্টগোলা ক্রসিং হয়ে ঈশান মিস্ত্রিরহাট, পুরাতন ডাকঘর, নিচিন্তপাড়া, বাকের আলী ফকিরেরটেক, ওমর শাহ্‌পাড়া, কলসি দিঘি, ইপিজেড় ঝনক প্লাজাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, সহসভাপতি এম এ আজিজ, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, ২৭, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সহিদা খানম মালা প্রমুখ।
মাঠে মোমবাতি প্রতীকের মাওলানা মতিনও :এদিকে চসিক নির্বাচনে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা এমএ মতিনও। গতকাল নগরীর ১৭, ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ ও পথসভা করেন তিনি। গণসংযোগে তার সঙ্গে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।