ফ্রি ওয়াইফাই

দেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি সিলেট

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২০     আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

চয়ন চৌধুরী, সিলেট

আলী আমজদের ঐতিহাসিক ঘড়িটি জানান দিচ্ছে সিলেট শহরের পরিচয়- ফাইল ছবি

আলী আমজদের ঐতিহাসিক ঘড়িটি জানান দিচ্ছে সিলেট শহরের পরিচয়- ফাইল ছবি

দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ 'ডিজিটাল সিটি' হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে পুণ্যভূমি সিলেট। নগরীর নিরাপত্তায় আইটি ক্যামেরা চালুর পর এবার ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই সেবা চালু হয়েছে। গত ১০ মার্চ থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৬২ এলাকায় এ সেবা পাচ্ছেন নগরবাসী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটকে 'ওয়াইফাই সিটি' আখ্যা দিয়ে পাবলিক ওয়াইফাইয়ের ইউজার নাম রেখেছেন 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'। আর পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে জাতীয় স্লোগান 'জয় বাংলা'। গত বছরের ২৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের উদ্বোধন হলেও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে এখন থেকে নগরবাসী পূর্ণাঙ্গ সেবা পাচ্ছেন। একই প্রকল্পের আওতায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যটন শহর কক্সবাজারের ৩৫টি পয়েন্টে ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন করা হয়েছে।

আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) 'ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রজেক্ট' নামে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর আওতায় সিলেট নগরীর ৬২টি এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ১২৬টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট (এপি) স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে সিলেট নগরীর নিরাপত্তায় ১১০টি আইটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ১০টি ক্যামেরায় ফেস রিকগনিশন (এফআর) ও ১০টি ক্যামেরায় অটো নাম্বার প্লেট রিকগনিশনের (এএনপিআর) বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এফআর ক্যামেরার সাহায্যে ডাটাবেজের যে কোনো অপরাধী এবং এএনপিআর ক্যামেরায় যে কোনো গাড়ি শনাক্ত করা সম্ভব। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে পাবলিক ওয়াইফাই জোন স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান 'ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রজেক্ট'-এর উপপ্রকল্প পরিচালক ও সিলেটে বিসিসির সাবেক পরিচালক মধুসূধন চন্দ। তিনি সমকালকে বলেন, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে সিলেট নগরীতে আইটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর পর ওয়াইফাই জোন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল। পরীক্ষামূলক কিছুদিন পরিচালনার পর এখন তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) ব্যবস্থা রাখা হলেও ব্যবহারকারীর সুবিধার্থে আপাতত তা বন্ধ রয়েছে। এতে কেউ ওয়াইফাইয়ে লগইন করতে চাইলে এসএমএসের মাধ্যমে তাকে ওটিপি পাঠানো হতো। এ ব্যবস্থা আবার চালু করা হবে বলে জানান মধুসূধন চন্দ।

আপাতত বিসিসি আইটি ক্যামেরা ও ওয়াইফাই জোনের দেখাশোনা করলেও শিগগির তা সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) তত্ত্বাবধানে দেওয়া হবে। অবশ্য আইটি ক্যামেরাগুলোর মনিটরিং ব্যবস্থা শুরু থেকেই মহানগর পুলিশের আওতাধীন কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আলম সমকালকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিবিসির সঙ্গে আলোচনা করে সিটি করপোরেশন থেকেই ওয়াইফাই জোনের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আইটি ক্যামেরাগুলো স্থাপনের সময় এসএমপির পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল।

গত বছরের ২৭ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। মধুসূধন চন্দ বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় 'ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রজেক্ট' মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, একসঙ্গে প্রত্যেকটি এপিতে পাঁচশ' জন সংযুক্ত হতে পারবেন, যাদের মধ্যে দুইশ' জন সর্বোচ্চ গতির সেবা পাবেন। প্রতিটি এপির চারদিকে একশ' মিটার এলাকায় ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ থাকবে ১০ মেগাবাইট/সেকেন্ড।

সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। এটি চালু হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে আরেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে।