বগুড়ায় ওরস আয়োজনে বাধা দেওয়ায় হামলা, দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত

গ্রেপ্তার ২০

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০   

বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাজারে ওরস আয়োজনে বাধা দেওয়ায় মরহুম এক পীরের অনুসারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। 

এ ঘটনায় পুলিশের এক ইন্সপেক্টরসহ দুই কর্মকর্তার হাত ভেঙে গেছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার এবং হামলায় জড়িত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

আহতরা হলেন- উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নান্নু খান ও অ্যাসিসটেন্ট সাব ইন্সপেক্টর জাহিদুর ইসলাম জাহিদ। তাদেরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রয়াত ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের বাবা সিরাজুল হক ওরফে মোস্তা হুজুর একজন পীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শহরের সুলতানগঞ্জ এলাকায় নিজ বাড়িতে তাঁর কবর রয়েছে। তার ওফাত বা মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছর ২৫ মার্চ রাতে ওরস মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই ওরসে বগুড়াসহ আশ-পাশের জেলাগুলো থেকে মরহুম সেই পীরের অনুসারীরা উপস্থিত থাকেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সরকারিভাবে সব ধরনের সভা-সমাবেশ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুধবার রাতে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া এলাকায় প্রয়াত ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের বাড়িতে ওরসের আয়োজন করা হয়। 

খবর পেয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নান্নু খান এবং অ্যাসিসটেন্ট সাব ইন্সপের জাহিদুল ইসলাম জাহিদ তাদেরকে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে ওরস আয়োজন বন্ধ করতে বলেন। এতে মরহুম সেই পীরের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তাকে আটকে রেখে বেধড়ক মারপিট করে। এতে তাদের দু'জনেরই হাত ভেঙে যায়। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ওই দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি তবে প্রস্তুতি চলছে।