শরীয়তপুর সদর উপজেলার আড়িগাঁও এলকায় মাদক ও জুয়া খেলার টাকার জন্য বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাহআলম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অসহায় বাবা ছেলের নির্যাতন সইতে না পেরে বিচার চেয়ে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

এর আগে মায়ের করা একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পালং মডেল থানা পুলিশ শাহআলমকে আটক করলে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন স্বজনরা। 

স্থানীয় ফারুক মিয়া জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আড়িগাঁও গ্রামের ফজলুর রহমান বেপারীর ৪ ছেলের মধ্যে শাহআলম বেপারী (৪২) সবার বড়। ছোট বেলা থেকেই শাহ আলম বেপরোয়া ভাবে চলা ফেরা করতো। অনেক বছর আগে থেকে সে জুয়া ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। পরিবারে লোকজন অনেক চেষ্টা করেও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। শাহআলম বাবা ও মায়ের কাছে জুয়া ও মাদকের টাকা চেয়ে না পেলেই তাদের মারধর করতো। বাবা-মা পরিবারের সম্মান বজায় রাখতে ছেলের এ নির্মম অত্যাচার অনেকদিন ধরে নীরবে সহ্য করে আসছিলেন। 

তিনি বলেন, গত বছর ফজলুর রহমান বেপারী হজে যাওয়ার আগে তার সহায় সম্পত্তি ছেলে ও মেয়েদের নামে বন্টন করে দিয়ে যান। এপর শাহআলম তার অংশ বিক্রি করে টাকা জুয়া ও মাদকের পেছনে শেষ করে আবারও টাকার জন্য বাবা-মাকে চাপপ্রয়োগ করতে থাকে। প্রায় তিন মাস আগে মা রাহেলা বেগমের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে তাকে বেধরক মারধর করে শাহআলম। পরে রাহেলা বেগমকে তার অন্য সন্তানরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এ ঘটনার পর তার মা পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই সময় পুলিশ শাহআলমকে আটক করলে থানা থেকে মুচলেকার মাধ্যমে ছাড়িয়ে নেয় তার অন্য স্বজনরা। এখানেই শেষ নয়। শাহআলম ছাড়া পেয়ে পরিবর্তন না হয়ে আরও বেপোরায়া হয়ে ওঠে। গত ২২ মার্চ আবার শাহআলম তার বাবার কাছে টাকা চায়। বাবা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাতে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে সে। তখন পরিবারের লোকজন ফজলুর রহমানকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর বাবা ফজলুর রহমান ছেলে শাহআলমের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনার পর থেকে শাহআলম পলাতক রয়েছে।

বাবা ফজলুর রহমান বেপারী বলেন, আমি হজে যাওয়ার পূর্বে আমার ৪ ছেলে ও ৫ মেয়েকে সকল সম্পতি ভাগবাটোয়ারা করে দিয়ে যাই। শাহজআলম তার প্রাপ্ত অংশ বিক্রি করে জুয়া ও মাদকের পেছনে টাকা শেষ করে ফেলে। এরপর আবারও আমার কাছে টাকা দাবি করে। আমি দিতে না পারায় সে আমাকে মারধর করে। এর আগে টাকার জন্য আমার স্ত্রীকেও মারধর করে সে। আমি ছেলের নির্যাতন ও অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, মাদকাশক্ত ছেলের বিরুদ্ধে তার বাবা একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। এ ঘটনার পর থেকে শাহআলম পলাতক রয়েছে। আমরা তাকে আটকের চেষ্টা করছি।