সরেজমিন নরসিংদী

হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে কমছে ডাক্তারও

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

শাহেদ চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম, নরসিংদী থেকে

একদিনেই বদলে গেছে নরসিংদী শহরের চেহারা। ব্যস্ত শহর এখন রীতিমতো ভূতুড়ে রূপ নিয়েছে। রাস্তা ফাঁকা, লোকজন নেই, যানবাহনও চলছে না। সবখানে থমথমে অবস্থা। সব মিলিয়ে রায়পুরা, শিবপুর, পলাশ, বেলাব ও মনোহরদী উপজেলাসহ পুরো জেলায় ছড়িয়ে আছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্ক।
গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের প্রাণকেন্দ্র স্থানীয় উপজেলা মোড়, জেল গেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল নেই বললেই চলে। জরুরি প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে এলে টহল পুলিশ নিরাপত্তার তাগিদ দিয়ে তাদের ঘরে ফিরিয়ে দিচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডাক্তারের সংখ্যাও কমেছে।
শহরের বিভিন্ন বাজারও বন্ধ হয়ে গেছে। হাতেগোনা কয়েকটি ওষুধ, মুদি ও খাবারের দোকান খোলা রয়েছে।
অলিগলিতে টংঘরের মতো দোকানপাটও খোলা রয়েছে। ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোয় গ্রাহকের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিচ্ছিন্নভাবে রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এই মহাসড়কের সংযোগ সড়ক সাহেপ্রতাপ ও ভেলানগর এলাকায় আগের চেয়ে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ জেলায় ৫৮১ জনকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শহরের সবক'টি রাস্তা ও মোড়ে পুলিশ সদস্যরা সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো যানবাহন শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, ভেতরেও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়ে বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এখন চলছে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ কার্যক্রম। মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না আসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জনগণকে।
জেলা প্রশাসক বলেছেন, প্রতিটি অফিসের সামনে ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প সদর উপজেলায় অবস্থান নিয়ে সদর, পলাশ ও শিবপুর উপজেলা এবং আরেকটি ক্যাম্প রায়পুরা উপজেলায় অবস্থান নিয়ে রায়পুরা, বেলাব ও মনোহরদী উপজেলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার জানান, জেলার এক হাজার ৭০০ পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাদের সব রকম আইনি এবং যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৩৭৫ পুলিশ জেলার প্রতিটি এলাকায় গিয়ে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছে। তাদের ঘরে সিল মেরে দেওয়া হয়েছে। এখন জেলার ৩৫ লাখ মানুষকে ঘরে রাখার কার্যক্রম নিশ্চিত করা হচ্ছে। পৃথিবীর 'বেস্ট ক্রাইসিস ম্যানেজার' হিসেবে খ্যাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সফল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহিম টিটন বলেন, আইসোলেশনসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশির রোগীর জন্য আলাদা সেল খোলা হয়েছে।
এদিকে শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে খুব কম দামে কৃষিপণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মুরগি ও ডিমের দাম বেশ কমেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ৭৫ টাকা এবং এক হালি ডিম ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে পোলট্রি খামারিরা বেশ বিপাকে পড়েছেন। এ অবস্থায় পোলট্রির দোকান খোলা রাখাসহ এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত গাড়ি চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নরসিংদী পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাজুল ইসলাম।