ভাটা লাগার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ লাল কাঁকড়া মিছিল নিয়ে ছুটছে। এঁকেবেঁকে পুরো বেলাভূমিতে যেন তারা আলপনা আঁকছে। এ দৃশ্য কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে গতকাল রোববার ভোর ৬টার। কয়েক যুগ পর 'বেদখল' হয়ে যাওয়া বেলাভূমি যেন পুনরুদ্ধার করেছে কাঁকড়ার দল। কয়েকদিন আগেও এমন দৃশ্য ছিল না। পর্যটকের ধাওয়ায় তারা লুকিয়ে থাকত গর্তে। হাজারো মানুষের পদচারণা ও মোটরসাইকেলের চাকায় পিষ্ট হয়ে গর্তগুলোও বুজে থাকত, মারা পড়ত লাল কাঁকড়া। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোও। জনশূন্য কক্সবাজার সমুদ্রতীরে যেমন ডলফিনের অবাধ বিচরণ দেখা যাচ্ছে, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে একই দৃশ্য লাল কাঁকড়ার বেলায়।
পরিবেশকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পর্যটকের পদচারণায় লাল কাঁকড়ার বিচরণভূমি হারিয়ে যেতে বসেছে। এগুলোর বিচরণ এলাকার পরিধিও ছোট হয়ে আসছে। সাগরে ভাটা থাকলে সৈকতের পরিধি বৃদ্ধি পায়। তখন লাল কাঁকড়া বালুর নিচের বাসা (গর্ত) থেকে বের হয়ে আসে; দৌড়াদৌড়ি করে। বালু থেকে মাটি আলাদা করে। যেন আলপনায় ঢেকে দেয় সৈকতের বেলাভূমি। কিন্তু দর্শনার্থী যখন ৩০-৪০ মিটার কাছে চলে আসে, তখন লাল কাঁকড়ার দল জীবন বাঁচাতে ভোঁ দৌড় দেয়। তখন কোনো কাঁকড়া উল্টে যায়। কোনোটি আহত হয়, হাত-পা ভেঙে যায়। পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে মারা পড়ে অনেক কাঁকড়া। তবে এখন যেন প্রকৃতির সঙ্গে প্রাণ ফিরে পেয়েছে লাল কাঁকড়াগুলোও।
গঙ্গামতির জেলে আলামিন বলেন, এখন পর্যটক না থাকায় আগের মতো তিন-চার কিলোমিটার সৈকতের সব জায়গায় লাল কাঁকড়া দেখা যাচ্ছে।
কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মাছ নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিড বাংলাদেশের কুয়াকাটা জোনের মাঠ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন বলেন, কাঁকড়া আর্থ্রোপোডা প্রজাতির একটি ক্রাস্টাসীয় প্রাকৃতিক জীব। লাল কাঁকড়া এর একটি প্রজাতি। কুয়াকাটা সৈকত ও সমুদ্রে এ পর্যন্ত ৫০০ প্রজাতির কাঁকড়ার সন্ধান পাওয়া গেছে।
পরিবেশবিদ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, 'লাল কাঁকড়ার কাজ হচ্ছে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা। ওরা বেলাভূমিতে প্রতিদিন দু'বার বালু ও মাটি আলাদা করার কাজ করে। সেটা দেখতে আলপনার মতো মনে হয়।