শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্টজনিত (হাঁপানি) রোগে আব্দুল আওয়াল (৫৮) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। 

রোববার রাতে মারা যান তিনি। তবে তার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় করোনার গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

স্থানীয়দের আতঙ্ক মুক্ত রাখতে নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আব্দুল আওয়ালের স্বজনরা জানান, তিনি ১০-১২ বছর ধরে হাঁপানি রোগে ভোগছিলেন। তিনি পেশায় পাইলিং শ্রমিক। বর্তমানে বাগেরহাট জেলার রামপাল খয়লারহাট এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন স্থানে একটি পাইলিং কনস্ট্রাকশনে তিনি শ্রমিকের কাজ করছিলেন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন চলায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য শ্রমিকরা গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়ি পলাশিকুড়ায় ফিরে আসেন। এরই মধ্যে রোববার রাতে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং তিনি মারা যান। 

মৃতের ভাতিজা জাকির হোসেন (৩২) জানান, আমার চাচা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। তার শরীরে কোন জ্বর, গলাব্যথা বা পাতলা পায়খানা এমন কোন লক্ষণ ছিল না। রোববার রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে তিনি মারা যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, এলাকা থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে খবর আসে। ফলে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে আমরা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কথা বলে তাদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের ব্যবস্থাপনায় কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করেছি। স্থানীয়দের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে আইইডিসিআরে পাঠানো হবে।