কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত রোববার কামাল হোসেন নামে এক রোগী সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে পালিয়ে যান। প্রথমে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম করতে বলা হয়। ডা. হাফিজুর রহমান মাসুদ আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে করে সন্দেহ প্রকাশ করেন কামাল হোসেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসক যখন রিপোর্ট লিখবেন এই সুযোগে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। সৌদি আরব থেকে এক মাস আগে দেশে ফিরেছেন বলে চিকিৎসা নেওয়ার সময় কামাল হোসেন কথা প্রসঙ্গে জানান।

পালিয়ে যাওয়ার সংবাদটি জানাজানি হলে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জেলার হোসেনপুর উপজেলা থেকে আসা ওই ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ, ডিবি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ মাঠে নামে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হোসেনপুরের ৬টি ইউনিয়নে প্রায় প্রতিটি গ্রামে কামাল হোসেন নামের ব্যক্তিকে চিহ্নিত ও আটক করতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য নামে তিনি চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন কিংবা হোসেনপুর উপজেলার বাইরে অন্য কোনো স্থানে তিনি আত্মগোপন করেছেন। তবে সন্ধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. এ কে এম মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের বহির্বিভাগের যেসব কক্ষে কামাল হোসেন পদচারণ করেছেন সেসব কক্ষ জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য সোমবার বহির্বিভাগে কিছু কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে যথারীতি কাজ শুরু হবে।