দিনাজপুরের বালু বাড়ি থেকে গত ২৪ মার্চ পঞ্চগড়ে এসেছিলেন মনোয়ারা বেগম (৪২) নামের এক নারী। করোনাভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে ওইদিন থেকে সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি পঞ্চগড়ের রেল স্টেশনেই আটকা পড়েন। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি রেল স্টেশনেই ছিলেন। ততদিনে তার শরীর জ্বরাক্রান্ত হয়, সর্দি-কাশিতেও ভুগতে থাকেন। করোনা সংক্রামণের ভয়ে কেউ তার কাছেই যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে সোমবার ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পঞ্চগড় জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী শুধু নিজের নাম এবং দিনাজপুর থেকে এসেছেন বলে জানাতে পারছেন। কোথায় যাবেন-তাও বলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন বলে চিকিৎসকদের ধারণা। তাই তাকে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপার ইউসুফ আলী সমকালকে বলেন, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পান- একজন নারী কয়েকদিন ধরে রেল স্টেশনে পড়ে আছেন। তার শরীরে জ্বর, সর্দি ও কাশি থাকায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন-এমন আতঙ্কে কেউ তার কাছেও যাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি সদর থানার ওসিকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী পরে ওই নারীকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, উদ্ধারের সময়ে ওই নারীকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী জীবাণুনাশক স্প্রে করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরাও পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহার করে তার কাছে যান। শেষ পর্যন্ত ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।