যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযেগিতার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল রানা নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ইছামতি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গোপিনাথপুর গ্রামের খোকা শেখের ছেলে হেকমত শেখ (৩০), ওই গ্রামের বারিক শিকদারের ছেলে টিপু শিকদার (৪০), হিদিয়া গ্রামের মুনসুর গাজীর ছেলে নাজমুল গাজী (২৬) এবং খায়বার বিশ্বাসের ছেলে শফিকুল বিশ্বাস (৩২)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ ১০/১২ দিন আগে ইজিবাইকে চড়ে মামাবাড়ি যাচ্ছিলেন। এ সময় নাজমুল গাজী এবং শফিকুল বিশ্বাসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার একপর্যায়ে গৃহবধূ তার স্কুল শিক্ষক স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে এবং পারিবারিক কলহের বিষয়ে জানান। এ সময় নাজমুল গাজী এবং শফিকুল বিশ্বাস তার সতীনকে তালাক দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়ে মোবাইল নাম্বার দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। গত ২৪ মার্চ তারা ওই নারীকে ইছামতি পাগলা বাবার মাজারে ডেকে কথাবার্তা বলেন এবং তার স্বামীকে ফোন করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য হুমকি দেন। এরপর গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় ওই নারীকে পুনরায় একই স্থানে ডাকা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে হেকমত শেখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুলিশ আসছে বলে নাজমুল ও শফিকুল দৌঁড়ে পালিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর সোহেল ও টিপু এসে ওই নারীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে উঠিয়ে ইছামতি গ্রামের গলাচিপা মোড়ের পাশে ফাঁকা স্থানে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে সোহেল রানা তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর হেকমত শেখ এসে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও অভয়নগর থানার এসআই এসএম আতিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট এখনও আসেনি। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছি। 

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৮ মার্চ রাতে ওই নারীর জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ পরবর্তীতে মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সোহেল রানা নামের এক অভিযুক্তকে গেপ্তার করে তার জবানবন্দি নিয়ে মঙ্গলবার আদলতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’