ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যেতে হলো শ্রমিকদের

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম ইপিজেডে পোশাক কারখানা খোলা থাকায় রোববার কর্মস্থলে যোগ দিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শ্রমিকদের- মো. রাশেদ

চট্টগ্রাম ইপিজেডে পোশাক কারখানা খোলা থাকায় রোববার কর্মস্থলে যোগ দিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শ্রমিকদের- মো. রাশেদ

জ্যোতি চাকমা। কাজ করেন চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (সিইপিজেড) একটি পোশাক কারখানায়। গতকাল রোববার থেকে কারখানা খোলা। বান্দরবান থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে আগের দিন ফিরেছেন নগরে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের চেয়ে তার কাছে মার্চ মাসের বেতনটা জরুরি। তাই পণ্যবাহী ট্রাক, ছোট ছোট যানবাহনে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনে, অনেকটা পথ হেঁটে ফিরেছেন নগরে। জ্যোতি চাকমার মতো পোশাক কারখানার কয়েক লাখ শ্রমিককে গতকাল কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক গার্মেন্ট বন্ধ রাখতে মালিকদের অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করেছেন অনেকেই। চট্টগ্রামের দুটি ইপিজেডে এদিন খোলা ছিল বেশিরভাগ কারখানা। এ দুটি ইপিজেডেই কর্মরত গার্মেন্ট শ্রমিক আছেন প্রায় তিন লাখ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন পর্যায় চলছে। এ অবস্থায় পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত অপরিণামদর্শী। লাখো শ্রমিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাদের মাধ্যমে পুরো নগরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ূয়া সমকালকে বলেন, এই সময় কারখানা খোলার মাধ্যমে যে ক্ষতি হবে তা পরবর্তী সময়ে লাখ লাখ ডলার দিয়েও পোষানো যাবে না। একেকটি কারখানা হবে করোনাভাইরাসের খোঁয়াড়।

বিজিএমইএ ও ইপিজেডগুলোর সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে সচল কারখানা রয়েছে প্রায় ৫৫০টি। এসব পোশাক কারখানায় প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক কর্মরত। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেডে ১৭৯টি কারখানায় শ্রমিক কাজ করেন দুই লাখ ১০ হাজার। কর্ণফুলী ইপিজেডের ৫৮ কারখানায় শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার। বাকি কারখানাগুলো নগরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় অবস্থিত।

সরেজমিন নগরের সিটি গেট, শাহ আমানত সেতু, অক্সিজেন ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি, ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে দলে দলে গার্মেন্টে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। এর আগের দিন একইভাবে বাড়ি থেকে শহরে এসেছেন তারা। নগরের আশপাশের উপজেলা থেকে হেঁটেও এসেছেন অনেকে। তাদের একজন আনজুমান আরা। তিনি থাকেন নগরের পতেঙ্গা থানার আকমল আলী রোডে। ফিরছেন পটিয়া উপজেলা থেকে। তিনি বলেন, 'মার্চ মাসের বেতন পাইনি। কারখানা বন্ধ থাকলে তো আর বেতন দেবে না। বেতন না পেলে খাব কী। বাড়িতেও টাকা দিতে হয়। কষ্ট হলেও কিছু দূর হেঁটে আর কিছু দূর ভ্যানে চড়ে এসেছি।' আরেক পোশাক শ্রমিক রহিমা খাতুন বলেন, 'করোনাভাইরাসের ভয়ের কথা শুনেছি। কিন্তু বাসায় বসে থাকলে তো ক্ষুধায় মরবো। ছেলেদের কী খাওয়াব। তাই কষ্ট করে শহরে চলে এসেছি।'

চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশিদ আলম সমকালকে বলেন, যারা কারখানা খুলেছে তাদের শর্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি আমরা।

কর্ণফুলী ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মশিউদ্দিন বিন মেসবাহ বলেন, করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর থেকেই কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হয়েছে। এখন যেসব কারখানা খুলেছে, সেখানেও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের জন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।