করোনাভাইরাসের কারণে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের অভাব থাকায় হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলায় ধান কাটার যন্ত্র বরাদ্দ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। 

কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জরুরিভিত্তিতে নতুন ১৮০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৩৭টি রিপার বরাদ্দ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার হাওরের কৃষকরা আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এসব যন্ত্র পাওয়া গেলে দ্রুত ধান মাড়াই ও গুদামজাত সহজ ও কম সময়ে করা যাবে। পাশাপাশি আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল থেকে বোরো ধান রক্ষা পেতে পারে।

ইটনা ধনপুর গ্রামের কৃষক ফজলুল হক বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কারণ, এবার শ্রমিক সংকট তীব্রতর হবে। এমতাবস্থায় এ উদ্যোগটি দ্রুততম সময়ে ধান কাটা ও গুদামজাত করতে সাহায্য করবে।  

জানা গেছে, সোমবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় কৃষি যন্ত্রপাতিতে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত সমন্বয় কমিটির’ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। 

সভায় সচিব নাসিরুজ্জামান বলেন, হাওরের বোরো ধান কাটার জন্য আমরা জরুরিভিত্তিতে এসব যন্ত্রপাতি বরাদ্দ করেছি। এর ফলে এ অঞ্চলের ধান কাটায় আর কোনো সমস্যা হবে না। হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ১৮০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৩৭টি রিপার বরাদ্দ করা হয়েছে। 

বর্তমানে হাওরাঞ্চলে ৩৬২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১ হাজার ৫৬টি রিপার সচল রয়েছে। এছাড়া পুরনো মেরামতযোগ্য ২২০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ৪৮৭টি রিপার অতি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে ১০০ (একশ) কোটি টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের কার্যক্রম চলছে। আগামী জুনের মধ্যে সারাদেশে ৬৪টি জেলায় তিন ক্যাটাগরিতে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। 

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

হাওর থেকে নির্বাচিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক সমকালকে বলেন, করোনার সময় সরকারের এই উদ্যোগ গোটা হাওরের কৃষককে উৎসাহিত ও সাহসী করেছে। তারা সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রোপন করা ও পাকা ধান গোলায় তুলতে পারবে বলে আশা করি। সরকারের সময়োপযোগী এই সুন্দর সিদ্ধান্তকে হাওরের কৃষক পরিবারের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই।