কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ২৫ বছর বয়সী সাহেদা খাতুন। লিভারের জটিলতা নিয়ে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর কর্মস্থলের এলাকা থেকে নিজের গ্রামের বাড়িতে মরদেহ নিয়ে গেলে শুরু হয় বিপত্তি। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে এমন গুজব রটিয়ে সাহেদার মরদেহ গ্রামে প্রবেশে সৃষ্টি হয় প্রতিবন্ধকতা। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।

উপজেলা মাইজবাগ ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কাশেমের মেয়ে সাহেদা খাতুন (২৫)। তার স্বামী মোস্তফা মিয়া। সাহেদা গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি প্লাস্টিকের বোতলের কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। 

লিভার জটিলতা নিয়ে তিনি মঙ্গলবার রাতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। 

বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সাহেদার মরদেহ নিয়ে আসা হয় ঈশ্বরগঞ্জে। এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সাহেদা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই খবরে গ্রামের প্রবেশমুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। গ্রামের মানুষকে অনেক বুঝিয়ে প্রতিবন্ধকতা সরাতে না পেরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে থানায় যায়। 

থানা থেকে সেই মরদেহ পাঠানো হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনও। পরে চিকিৎসকরা তথ্য উপাত্ত নিয়ে জানতে পারেন ওই নারী করোনায় মারা যাননি। 

পরে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামের লোকজনকে বুঝিয়ে ব্যারিকেড খুলে ফেলে। মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে। পরে দুপুরেই নিজ বাড়ির কাছে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। 

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, ওই নারীর লিভার জটিলতায় মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই শাওন চক্রবর্তী বলেন, করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে সন্দেহে মরদেহ গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন অন্য কারণে মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত করলে গ্রামের লোকজনকে বুঝিয়ে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফনও করা হয়।