কুড়িগ্রামে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। ঘরের বাইরে বের হলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা আর ঘরের ভেতরে মশার কামড়। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। 

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কুড়িগ্রাম পৌরসভার অধিবাসীরা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন তারা। 

পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের নর্দমাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় পানি ও আবর্জনা জমে-পচে মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। 

কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল আহমেদ জানান, ২৭ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ। পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় ৪০ কিলোমিটার নর্দমা রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার নর্দমা এক যুগের বেশি সময় ধরে অকেজো হয়ে আছে। 

পৌরসভার অধিবাসী দুলাল বোস জানান, দীর্ঘদিন ধরে নর্দমাগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এগুলোতে পানি জমে-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। পরিণত হয়েছে মশা উৎপাদনের কারখানায়। শুধু তাই নয় নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাও মশার উপদ্রবে বাড়িতে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। 

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান জানান, তার ওয়ার্ডে ৫ কিলোমিটারের মতো নর্দমা আছে। এর পুরোটাই অকেজো হয়ে আছে। নর্দমাগুলো সংস্কারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পৌর মেয়রকে অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।  

সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম জানালেন, এখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কেননা গত বছর স্থানীয়ভাবে ৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া পৌরসভার মেয়রকে মশা নিধনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে পৌরসভার মেয়র আব্দুল জলিল দাবি করেছেন, মশা নিধনে কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি অকেজো নর্দমাগুলো সংস্কারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নর্দমাগুলো সংস্কার করা হবে।