তিন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লোকবল সঙ্কট ও সংক্রমণ ঝুঁকির কারণে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসকের স্বামী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই ব্যক্তির করোনা ধরা পড়ায় হাসপাতালের ইউএইচওসহ ১৪ চিকিৎসকের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় ও তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত করিমগঞ্জ উপজেলায় ৮ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়। ফলে কয়েকদিন ধরে হাসাপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সেখানে কোনো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল না। এর মধ্যে সোমবারে দু'জন ও মঙ্গলবারে আরো এক চিকিৎসকের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এ অবস্থায় সকালে হাসপাতাল লকডাউন করা হয়। পরে রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। 

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সব চিকিৎসক, নার্সিং কর্মকর্তাসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা আইসোলেশন এবং সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনে থাকায়, হাসপাতালে আগত রোগীসহ অ্যাটেনডেন্টদের সংক্রমণ ঝুঁকির কথা বিবেচনায় এবং পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি জীবাণুমুক্তকরণের প্রক্রিয়ার লক্ষ্যে জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।'

একই সঙ্গে হাসপাতাল বন্ধ থাকাকালীন রোগীদের পার্শ্ববর্তী প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ সদরের যশোদলে অবস্থিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও জেলা শহরের জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে তিন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই চিকিৎসকের সংস্পর্শে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ হাসপাতালের সবার নমুনা পরীক্ষা প্রয়োজন। 

করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাহেদ রনি জানান, হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত করাসহ আরও কিছু কাজ রয়েছে। সেগুলো করতে কয়েকদিন লাগে তার ওপর নির্ভর করবে আবার কবে হাসপাতাল চালু করা যাবে।