করোনাভাইরাসের প্রধান উপসর্গ জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু, স্কুলছাত্রীসহ আরও ১১ জন মারা গেছে। এর মধ্যে খুলনায় দু'জন, বরিশালে একজন, রাঙামাটিতে দু'জন, ময়মনসিংহে একজন, নওগাঁয় একজন, নরসিংদীতে একজন, রংপুরে একজন, কুড়িগ্রামে একজন এবং শরীয়তপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনা উপসর্গে সারাদেশে ১৭০ জনের মৃত্যু হলো।

ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মো. আসাদুজ্জামান নামে এক যুবক এবং দুপুরে মিতু নামে ১০ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের ফ্লু কর্নারের ফোকাল পার্সন ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, নগরীর লবণচরা এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান শ্বাসকষ্ট নিয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। এক ঘণ্টা পর তিনি মারা যান। তিনি অ্যাজমার রোগী ছিলেন। মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া রূপসা উপজেলার কাজদিয়া গ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার রাতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে মিতু নামে এক শিশু ভর্তি হয়। শুক্রবার দুপুরে সে মারা যায়।

বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন মাকসুদা বেগম (৪২) নামে এক নারী মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, ওই নারী অ্যাজমাজনিত নানা সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার হাসপাতালে আসেন। তাকে করোনা ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তার বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায়।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও রাজস্থলীতে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে যুবক ইমাম উদ্দিন জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেপের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি মুদি দোকানি ছিলেন।

এদিকে রাজস্থলীতে থুইসাসিং মারমা নামে আরেক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ১২ দিন আগে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসেন। তার জ্বর ছিল। শুক্রবার সকালে তাকে ঘুম থেকে ডাকতে গিয়ে সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতের কোনো এক সময়ে তার মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে মৃত্যু হয় অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়েটির। খবর পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই পরিবারের লোকজন লাশ দাফন করে ফেলেন।

নওগাঁ শহরের চকদেব জনকল্যাণপাড়া মহল্লায় মাহাবুব আলম (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বুধবার তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন।

নরসিংদীর বেলাবতে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে নান্নু মিয়া (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি উপজেলার আমলাব গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। দুই দিন আগে তিনি বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন।

রংপুরের পীরগঞ্জে ফারুক মিয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নে। এলাকাবাসী জানান, ওই ব্যক্তি কয়েক দিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গতকাল ভোরে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক শিশু মারা গেছে। খবর পেয়ে গভীর রাতে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপের মেডিকেল টিম গিয়ে মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। শিশুটির জ্বর ও কাশি ছিল।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জ্বর ও শ্বাসকষ্টে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাকায় একটি ব্যাংকে পিয়নের চাকরি করতেন। শুক্রবার সকালে উপজেলার চামটা এলাকায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম রাজিব।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১৫ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৩৮ জনে ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে।