রাজশাহীর মোহনপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রী কুমারী অষ্টমীকে পাঁচ মাস আগে অপহরণ করে জেলে গিয়েছিল সহপাঠী গোলাম মোস্তফা। জামিনে বের হয়ে ফের ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত শুরু করে সে। এতে তাকে সহযোগিতা করেন এক শিক্ষক। সহ্য করতে না পেরে কুমারী অষ্টমী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই ছাত্রীর কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই সঞ্জয় কুমার বৃহস্পতিবার রাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে উত্ত্যক্তকারী গোলাম মোস্তফা এবং তার সহায়তাকারী শিক্ষকসহ সাতজনকে আসামি করে মোহনপুর থানায় মামলা করেন।

পরে পুলিশ শুক্রবার ঘাসিগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শরীয়ত আলী (৪০), উত্ত্যক্তকারীর খালু দুলাল হোসেন (৪৫), খালা রুবিনা বেগম (৩৫) ও ঘাসিগ্রামের ইউপি সদস্য ওমর আলীকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

পুলিশ জানিয়েছে, কুমারী ঘাসিগ্রাম হিন্দুপাড়ার নিমাই সরকারের মেয়ে। তাকে দেড় বছর ধরে প্রেম নিবেদন করে আসছিল পাশের গ্রাম বাজেদেওপুরের আফজাল হোসেনের ছেলে গোলাম মোস্তফা। গত ১১ নভেম্বর প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় গোলাম মোস্তফা তার লোকজন নিয়ে কুমারীকে অপরহণ করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়।

নিহতের ভাবি ইতি কুমারী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার ননদকে অনেকবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের কক্ষ থেকে উঁকি দিয়ে কুমারীকে গলায় ফাঁসিতে ঝুলে থাকতে দেখেন।

মোহনপুর থানার ওসি মোস্তাক আহমেদ জানান, ময়নাতদন্ত শেষে কুমারী অষ্টমীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধান আসামি গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।