করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য উৎপাদন কার্যক্রম চালু রেখেছে বাংলাদেশ ক্ষুুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পাবনা শিল্পনগরী। এই নগরীতে বর্তমানে ১৬৭ কারখানা উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। করোনা প্রতিরোধমূলক সব স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এসব কারখানা চালু রয়েছে যা শিল্পনগরীর কর্মকর্তারা নিয়মিত মনিটর করছেন।

পাবনা বিসিক শিল্পনগরীতে ছোট-বড় ২০৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় জীবনরক্ষাকারী ওষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পাঁচটি ইউনিট এখানে স্থাপিত। এই ইউনিটগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কেমিক্যাল ডিভিশন, আয়ুর্বেদিক ডিভিশন, এগ্রোভেট ডিভিশন, স্কয়ার হারবাল অ্যান্ড নিউট্রাসিউটিক্যালস এবং স্কয়ার ফার্মা প্যাকেজেস। দেশের বাজারে সরবরাহ করা ছাড়াও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ইউরোপ, আফ্রিকা ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করে থাকে।

পাবনা বিসিক শিল্পনগরীর উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উৎপাদনরত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকরা মাস্ক ব্যবহার করে ও প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছে। এ ছাড়া অফিস বা কারখানায় প্রবেশের আগে সবাই সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন। সব কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করা হচ্ছে।

শিল্পনগরীর কর্মকর্তা কামাল পারভেজ জানান, বিসিক শিল্পনগরী পাবনায় দৈনিক প্রায় ৫০০ টন চাল, ৩৫০ থেকে ৪০০ টন ডাল এবং সাত থেকে আট টন সরিষার তেল উৎপাদিত হয় যা উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হয়।

পাবনা বিসিক শিল্পনগরীতে সরকার পরিচালিত একটি হাঁস-মুরগির খামার (হ্যাচারি) রয়েছে। হ্যাচারিটি থেকে বছরে বাচ্চা ফুটানোর জন্য প্রায় তিন লাখ ডিম ও তিন লাখ এক দিনের বাচ্চা স্থানীয় খামারগুলোতে সরবরাহ করা হয়, যা স্থানীয় আমিষের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে।

১৯৬২ সালে ১১০ দশমিক ৫৩ একর জমিতে যাত্রা শুরু করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিকের এই শিল্পনগরী। পরে ২০১৬ সালে আরও ১৫ একর জমিতে এ শিল্পনগরী সম্প্রসারণ করা হয়।