করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মানুষজনকে ঘরে রাখতে ও ঘরে অবস্থানের সময়কে আনন্দময় করে তুলতে বগুড়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার এ আয়োজনে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষ এমনকি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাও অনলাইনে অংশ নিতে পারবে।

 বয়স অনুযায়ী আয়োজনে থাকছে চিত্রাঙ্কন, রচনা, গান, কবিতা এবং স্ক্রিপ রাইটিং প্রতিযোগিতা। প্রত্যেকে ঘরে বসেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। বিজয়ীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুদার রহমান হেলাল বলেন, 'মানুষকে এখন ঘরে রাখা খুবই জরুরি। কিন্তু তারা সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে আসার চেষ্টা করছে। এ সময় পুলিশের এই উদ্যোগ খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'

বগুড়া জেলা পুলিশের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সৃজনশীল ওই প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সবাইকে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ৫ মের মধ্যে competition.spbogura@gmail.com এই ই-মেইলে বিষয়বস্তু জমা দিতে এবং গান ও কবিতার ক্ষেত্রে ভিডিও পাঠাতে বলা হয়েছে। অন্যসব বিষয় নিজ হাতে লিখে পিডিএফ করে বা ছবি তুলেও পাঠানো যাবে।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। গ গ্রুপে ১ম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় 'বাংলাদেশের প্রকৃতি', খ গ্রুপে ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিষয় 'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা' এবং ক গ্রুপে সপ্তম থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিষয় 'করোনা সচেতনতা'। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে চিত্রাঙ্কনের বিষয় উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। 

রচনা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ক গ্রুপে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় ৬০০ শব্দের মধ্যে 'কোয়ারেন্টাইন কী এবং কেন' এবং 'করোনা প্রেক্ষাপটে নাগরিক সচেতনতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য', খ গ্রুপে ৬ষ্ঠ থেকে এসএসসি পর্যন্ত ৫০০ শব্দের মধ্যে 'বঙ্গবন্ধুর শৈশব, কৈশোর ও ছাত্রজীবন' এবং গ গ্রুপে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০০ শব্দের মধ্যে 'যেভাবে কাটছে ছুটি'।

গান বা কবিতা আবৃত্তি ক্যাটাগরি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে 'করোনা যুদ্ধে পুলিশের কার্যক্রম' বিষয়ে গান বা কবিতা আবৃত্তি করতে হবে। অভিভাবকদের জন্য রয়েছে ৬০০ শব্দের মধ্যে 'পারিবারিক সহিংসতার উৎপত্তি, কারণ এবং প্রতিকার' বিষয়ে স্ক্রিপ্ট লেখা প্রতিযোগিতা।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রতিটি গ্রুপের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে যথাক্রমে ৫ হাজার, ৩ হাজার ও ২ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি গ্রুপে সেরা ২০ জনকে বগুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সনদপত্র দেওয়া হবে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, বাড়িতে সময় কাটানো সময়টাকে আনন্দময় করে তোলার জন্য তাদের এই প্রয়াস।

বগুড়ায় পুলিশের গণমাধ্যম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রতিযোগিতার বিষয়ে আরও তথ্য জানতে চাইলে ০১৭৪১০৯৮৭০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।