সারাদেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি খাদ্য গুদামে ২৮ টাকা কেজি দরে গম ক্রয় শুরু করেছে। তবে সরকারের দরের চেয়ে বাজার দর ভাল থাকায় চাষিদের থেকে এবার গম ক্রয় করতে পারছে না সরকার। 

বাজারে কাঁচা গম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি সাড়ে ২৬ থেকে সাড়ে ২৭ টাকা। আর সরকার মিটার পাশ (১৪ ভাগ আর্দ্রতায়) পরিষ্কার গমের দর নির্ধারণ করেছে মাত্র ২৮ টাকা কেজি। বাজারের চেয়ে সরকারি গুদামে গম বিক্রি করতে কেজিতে ৪ টাকা খরচ বেশি কিন্তু দামে বেশি মাত্র ১ টাকা। প্রতি কেজিতে লোকসান ৩ টাকা। সে কারণে চাষিরা সরকারের কাছে গম বিক্রি করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে পুনরায় দাম নির্ধারণ করে গম ক্রয়ের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় গম চাষিরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জেলায় এ বছর গমের চাষ হয়েছিল ৫০ হাজার ৬শ ৭৫ হেক্টর। আর উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৭শ ৭৭ মেট্রিক টন। গত বছর জেলায় গমের আবদ হয়েছিল প্রায় ৪৭ হাজার হেক্টর।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচটি উপজেলায় ১২ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন গম চাষিদের থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্রয় করবে সরকার। ইতোমধ্যে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। তবে বাজারে গমে দাম বেশি থাকায় ২৮ টাকা দরে চাষিরা গম দিতে আগ্রহী নয়। কারণ ২৮ টাকা দরে সরকারের কাছে গম বিক্রি করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চাষিরা সে কারণেই আনাগ্রহী তারা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের গম চাষি আব্দুল গনি বলেন, কয়েক বছর পরে বাজারে এ বছর গমের দাম ভাল। কাঁচা গম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ২৬ থেকে সাড়ে ২৭ টাকা কেজি দরে। অথচ সরকার এবার গমের দাম নির্ধারণ করেছে মাত্র ২৮ টাকা। সরকারের কাছে গম বিক্রি করলে মিটার পাশ করে শুকিয়ে ফ্যানের হওয়ায় পরিষ্কার করতে হয়। কাঁচা গম সরকারি গুদামে পৌঁছতে প্রতি কেজিতে কমপক্ষে ৪ টাকা খরচ বেশি হয়। কিন্তু দাম মাত্র ২৮ টাকা। সে কারণে এবার চাষিরা সরকারি দরে গম দিচ্ছে না। তবে সরকার যদি মূল্য পুনরায় নির্ধারণ করে ৩৫ টাকা করে তা হলে চাষিরা গম দিতে পারে সরকারি গুদামে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেন বলেন, গত ১৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও ১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি গুদামে গম ক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এখন পর্যন্ত জেলায় ৪ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ হয়েছে। বাজারে গমের দাম বেশি মনে হয় সে কারণে সরকারি গুদামে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত চাষিরা গম দিতে আগ্রহী হচ্ছে না।

জেলা বিপণন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলার বিভিন্ন বাজারে ২৬-২৭ টাকা কেজি দরে গম বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময় বাজার দর ছিল ২০-২১ টাকা। আর সরকারি দর ছিল ২৮ টাকা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, দেশের মোট গম উৎপাদনের মধ্যে শুধুমাত্র ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ ভাগের ১ ভাগ গম উৎপাদন হয়। জেলা গত বছরের তুলনাই গমের আবাদ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা ভালভাবে উৎপাদিত গম সংরক্ষণ করে বাজারজাত করছেন। এ বছর গমের ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় আশা করি আগামীতে গমের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।